Home Blog Page 82

চবির পাহাড়ে আগুনে পুড়ছে প্রাকৃতিক বন ও গাছাপালা

0

চবি সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একটি পাহাড়ে আগুন জ্বলছে। এতে প্রাকৃতিক বন ও গাছপালা ব্যাপকভাবে পুড়ে ছাই হচ্ছে ।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যবর্তী পাহাড়ে এই আগুন জ্বলছে। আগুন নেভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। আমরা সবাই ঘটনাস্থলে আছি। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিভে যাবে।

এর আগে ১১ মার্চ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হলের পেছনের পাহাড়ে একইভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবছর পাহাড়ে আগুন দেয়। তবে কে কারা আগুন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন সময় বের করতে পারেনি। আর এ আগুনে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বন পুড়ে ছাই হচ্ছে।

 

পালানোর ১৭ দিন পর লাশ হলো কেয়া

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : নববধু কেয়া খাতুন (১৬)। কিন্তু বিয়ের পর প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় সে। নিখোঁজের ১৭ দিন পর তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের মাঠ থেকে কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় কেয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে লাশটি আসলেই মাদ্রাসা ছাত্রী কেয়ার কিনা তা ডিএনএ টেষ্ট ছাড়া সনাক্ত করা যাচ্ছে না। কেয়া বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে ও একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রো চালক সাবজাল হোসেনের নববধু।

এদিকে ওই ছাত্রীর দাদা মোশাররফ মন্ডল জানান,  চুলের ব্যান্ড পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটাই আমাদের কেয়া। নিহতের পিতা আব্দুস সামাদ জানান, পহেলা মার্চ তার মেয়েকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। যাওয়ার সময় বাড়িতে রাখা তার বিয়ের খরচ বাবদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, কালীগঞ্জ থানায় জিডি করলে পুলিশ ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আজগার হোসেনের ছেলে আজিমকে আটক করে। পরে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে ত্রীলোচাঁদপুর গ্রামের আজিম, সলেমানের ছেলে মিলন ও আশাদুলের ছেলে ইস্রাফিল হত্যা করেছে।

তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা বলেছেন, আমি নয়, আজিমকে কেয়ার পিতা ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। চেয়ারম্যানের ভাষ্য মতে এই হত্যার সাথে মিলন নামে এক যুবক জড়িত থাকতে পারে। তাকে ধরলেই এই হত্যার রহস্য বের হতে পারে। মিলনই কেয়াকে হত্যা করতে পারে বলে সন্দেহ করছি।

গ্রামবাসী জানায়, বিয়ে হওয়ার পরও কেয়া গ্রামের কিছু যুবকের সাথে মোবাইলে কথা বলতো। হয়তো কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কও গড়ে উঠতে পারে। সেই সুত্র ধরেই কিলার গ্রুপটি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কেয়াকে হত্যার পর তার কাছে থাকা ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে।

নিহত কেয়ার পিতা জানান, মোবাইলের কল লিস্ট যাচাই করলেই কারা এই হত্যার সাথে জড়িত তা বেরিয়ে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, এটা গলিত লাশ তাই ডিএনএ টেস্ট ছাড়া আমরা বলতে পারব না যে এটি কেয়া খাতুনের লাশ।

 

মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন মন্ত্রী, মেয়র ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে গঠিত নাগরিক ঐক্য পরিষদ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সমর্থনে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে।

কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও এম এ সালামকে। তিন মন্ত্রীকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। সবাই রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রেজাউল করিমের নির্বাচনের কাজে জাতীয় স¤পদ সার্কিট হাউজ ও এর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে এরও প্রতিকার চেয়েছে নাগরিক ঐক্য পরিষদ।

গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের বরাবরে লিখিত এ অভিযোগ দাখিল করে নাগরিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব নছরুল কদির।

অভিযোগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।

তবে মন্ত্রী-এমপি ও মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্যতিরেকে শুধু সরকারি গাড়ি ও সার্কিট হাউজ ব্যবহারের অভিযোগ আমলে নিয়ে তা তদন্তের জন্য ১২ মার্চ বৃহ¯পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, অভিযোগ প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীসহ দলের নেতাদের নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বৈঠক করেন।

এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নগর আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভায় যোগ দেন। বিভিন্ন ঘরোয়া বৈঠকে রেজাউলের পক্ষে মন্ত্রী-এমপিদের নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

 

কর্ণফুলীতে কোস্টগার্ডের অভিযান, ২ লাখ ইয়াবা জব্দ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
শুক্রবার ভোরে কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

কোস্টগার্ড পূর্বজোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ইয়াবা জব্দ করে কোস্টগার্ড পূর্বজোনের একটি টিম। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বোটের মালিক ও ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

মামলায় ছিলাম এবং আছি

0

মতিউর রহমান চৌধুরী :

মামলা নতুন নয়। অসংখ্য মামলার মধ্যে আছি ছিলাম। তবে অভিনব একটি মামলা হয়েছে ৯ই মার্চ। একজন এমপি তার মানহানি হয়েছে বলে মানবজমিন-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা তিনি করতেই পারেন। তার এই অধিকার রয়েছে। তিনি যদি আইন প্রণেতা না হয়ে অন্য কেউ হতেন তাহলে বোধ করি এ নিয়ে এতোটা সমালোচনা হতো না। দলমতনির্বিশেষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা সোচ্চার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পাশে দাঁড়িয়েছে। জারি রেখেছে প্রতিবাদ। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখাটা শুরু করতে চাই।

মানবজমিন। উপমহাদেশে প্রথম বাংলা ট্যাবলয়েড। ২২ বছর কেটে গেছে অনেক লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে। ট্যাবলয়েড বলতে যা বোঝায় তা আমরা করতে পারিনি। কারণ সমাজ অনুমতি দেয় না। আমাদের সমাজ কনজারভেটিভ। মামলা হয়েছে অনেক। এর মধ্যে ক্যাসেট কেলেঙ্কারির মামলা অন্যতম। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন তখন প্রেসিডেন্ট। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হাইকোর্টের বিচারপতি লতিফুর রহমানের সঙ্গে একটি মামলা নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে নানা গুঞ্জন। বিষয়টি যায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের কানে। মাহমুদুল ইসলাম তখন অ্যাটর্নি জেনারেল। কিছুকাল আগে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আইন বিষয়ে পণ্ডিত এই লোকটিকে যখন সাহাবুদ্দীন সাহেব আদালত অবমাননার মামলা করার নির্দেশ দিলেন তখন সময় নেননি। অতি দ্রুততার সঙ্গে আমার এবং মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলেন। আসামি করা হলো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। আদালতে এতো বড় মামলা কীভাবে মোকাবিলা করবো তা নিয়ে ভাবনার মধ্যে পড়ে গেলাম। মাথার উপরে বসতেন প্রয়াত আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। দু’জনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা। মাঝে মধ্যে উপর তলায় গিয়ে আড্ডা দিতাম। উপমহাদেশখ্যাত আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ মামলার কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেলেন। বললেন, প্রমাণ কি আছে? না-কি শুনেই রিপোর্ট করেছেন? প্রমাণ না থাকলে কিন্তু জেলে যেতেই হবে। তাছাড়া আমি নিজেও মামলা নেবো না। বললাম, বিচারপতি আর এরশাদ সাহেবের মধ্যেকার টেলি কথোপকথনের টেপ রয়েছে। অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে তাকালেন। বললেন রোকনের সঙ্গে কথা বলে এই মামলা লড়বো। ঠিকই ব্রিফ তৈরি করলেন। ক্যাসেট শুনলেন দু’দফা। ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ক্যাসেট শুনে বললেন আপনি কি গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করেন নাকি! এই ক্যাসেট পেলেন কোথায়? আদালতে দুই প্রভাবশালী আইনজীবী মামলা লড়বেন শুনে মাহমুদুল ইসলাম ছুটে এলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের কাছে। স্যার এটা কি ঠিক আপনারা দাঁড়াচ্ছেন আসামিদের পক্ষে। ইশতিয়াক সাহেব হেসে দিয়ে বললেন কেন? আপত্তি আছে? না স্যার, এসব মামলায় প্রমাণ ছাড়া কি আপনাদের মতো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেন? দেখা যাক, আদালতেই দেখা হবে। মামলা উঠলো আদালতে। বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ও বিচারপতি এ, কে, এম শফিউদ্দিন প্রথমেই জানতে চাইলেন কিসের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট করা হয়েছে? এরশাদ সাহেব যে বিচারপতি লতিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন এর দালিলিক প্রমাণ কি? ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বললেন, আমরা এখনই প্রমাণ হাজির করবো। ক্যাসেট দেখিয়ে বললেন, এটাতে প্রমাণ বন্দি করা আছে। আদালত চত্বর তখন আইনজীবীতে ঠাসা। কৌতূহলী মানুষজনেরও ভিড়। আদালতের কার্যক্রম এক ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হলো। ক্যাসেট রেকর্ডার আগেই বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ক্যাসেট শুনলেন বিচারপতি প্যানেল ও আইনজীবীরা। বিচারপতির কণ্ঠ শুনে সহকর্মীরা নিশ্চিত হলেন। আর এরশাদ সাহেবের কণ্ঠ তো সবার চেনা। সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতি লতিফুর রহমান পদত্যাগ করলেন। মামলা চলতে থাকলো। রায়ে এরশাদ সাহেবের ছয় মাসের জেল। আমার ১ মাস। মাহবুবা চৌধুরীর ১ দিন। আদালতে প্রমাণ হাজির করেও জেল কেন হলো এই প্রশ্নের কোনো জবাব পাইনি। এমন কি বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামকে অবসরকালীন সময়ে এক অনুষ্ঠানে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও জবাবটা এড়িয়ে যান। মামলাটি এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগে বিচারাধীন। যাই হোক, মামলা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। জীবনে মামলা মোকাবিলা করেছি অনেক। চাকরি হারিয়েছি ’৭৪ সনে। খালেদা জিয়ার জমানায় জেলে গিয়েছি। ১৭ ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দুর্নীতিপরায়ণদের উল্লাসের নৃত্য লেখার কারণে আমার গাড়িও ভেঙে দিয়েছিল এরশাদ সাহেবের লোকেরা। সাপ্তাহিক খবরের কাগজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের জমানায় দু’বার অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়। একনাগাড়ে বিনা কারণে আট মাস বাইরে থাকার দুঃখজনক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ছাত্র-রাজনীতি থেকে সাংবাদিকতায় এসেছিলাম। রাজনীতি করলে কিছু একটা হতে পারতাম। আমার বন্ধুরা তো হয়েছেন। রাজনীতি করার ইচ্ছে কখনো ছিল না। এখনো নেই। কোনো দলে ভিড়ি নাই। কোনো ফোরাম বৈঠকেও যাই না। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করি। খারাপ কাজের সমালোচনা করলে অনেকে ক্ষুব্ধ হন। দলভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিএনপি’র শাসনকালে কেবলমাত্র ‘মানবজমিন’ লিখেছিল ৬ জন মন্ত্রী ছাড়া বাকিদের গায়ে ময়লা লেগেছে। আসলে ৫০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে কারো লোক হতে পারলাম না। মাগুরা-১ এর এমপি সাইফুজ্জামান শিখর মামলা করেছেন। শিখরের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। কোনোদিন ফোনেও কথা হয়নি। তবে তার বাবা এডভোকেট আসাদুজ্জামানের সঙ্গে পরিচয় ছিল। ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাকে নিয়ে অনেক লিখেছি। একজন সৎ রাজনীতিবিদ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি সচ্ছল রাজনীতিবিদ ছিলেন না। মানুষ তাকে ভালোবাসতো প্রাণভরে। অনেক কষ্ট করে গেছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। আমি তখন বাংলাবাজার পত্রিকার সম্পাদক। তাকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। ‘একজন আসাদুজ্জামানের মৃত্যু’। শিখরের পরিবারের কাছে আমার এই লেখাটি অনেকদিন সযত্নে রাখা ছিল। দলের জন্য অনেক কিছু করলেও আসাদুজ্জামান সাহেব সুখ দেখে যাননি। মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা আগেও ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ তিনি ছিলেন সৎ রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাইফুজ্জামান শিখর মামলা করেছেন। মামলা চললে আদালতে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করবো। আইন যদি সত্যিকার অর্থে তার নিজস্ব গতিতে চলে তাহলে আমরা ন্যায়বিচার পাবো- এটা আশা রাখি। একটা কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই, আইন করে যেমন কাউকে দায়িত্বশীল করা যায় না। তেমনি আইন কারো মানও ফিরিয়ে দিতে পারে না। মানহানি থেকে সুরক্ষা সব দেশের আইনেই থাকে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি আলাদা সত্য রয়েছে। সেটি হলো তাদের মান-মর্যাদার বিষয়টি আইন দ্বারা নয়, সেটা বহুলাংশে পাবলিক পারসেপশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

দৈনিক মানবজিমন থেকে সংগৃহীত

বিসিবির সভাপতি হচ্ছেন মাশরাফি?

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে ক্রিকেটেরও সমাপ্তি টানলেন মাশরাফি। তাতে কি? মাশরাফি আর না খেললেও তাকে যোগ্য মর্যাদার আসনে বসানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

সম্প্রতি হাতিরঝিলে বঙ্গবন্ধু স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনকালে এ কথা জানান তারা। এর আগে ৬ মার্চ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সবশেষ কিছু ম্যাচে ফর্ম না থাকায় অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়েই গেল কিছুদিন ধরে বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। এখন অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন।তবে গুঞ্জন উঠছে খেলোয়াড় মাশরাফি কি বাংলাদেশ দলে জায়গা পাবেন? তারই প্রেক্ষিতে এ বক্তব্য দিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেল।

অধিনায়কত্ব থেকে বিদায়ের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘মাশরাফি দেশের ক্রিকেটারদের আইকন। আমরা তাকে সর্বোচ্চ জায়গায় দেওয়ার জন্যই অপেক্ষা করতেছি। মাশরাফিকে আমরা তার যোগ্য মর্যাদার স্থানেই বসাবো’।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে ধরা হয় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মাশরাফি। কিন্তু ইনজুরির কারণে দল থেকে বাইরে চলে যান কয়েক বছরের জন্য।

এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে আবারো বাংলাদেশ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পান মাশরাফি।এরপর থেকেই পাল্টাতে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চিত্র। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব ছাড়লো ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যান মাশরাফি।

 

করোনা আক্রান্তদের দু:খ-দুর্দশার বিবরণ ফেসবুকে

0

শুভ বিশ্ব ডেস্ক : ইতালির হিউম্যানিটাস গাভাজেনি হসপিটালের ডা. ডেনিলে ম্যাকিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই, এ রোগের লক্ষণ ও অবহেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছেন। যা অনুবাদ করে প্রকাশ করেছে শুভ চট্টগ্রাম।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আমাদের এখানে কী ঘটছে, এ নিয়ে কী লিখবো তা অনেক চিন্তা-ভাবনার পর মনে হলো-চুপ থাকা দায়িত্ববানের কাজের মধ্যে পড়ে না। করোনাভাইরাসের দাপটের মুহূর্ত আমি বার্গামোতে কাটিয়েছি। আমি জানি যে, এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক তৈরি করা যাবে না। কিন্তু ভয়াবহতার বার্তা যখন মানুষের কাছে একেবারেই পৌঁছে না, তখন সেটি আর ভয়ের।

বার্গামোতে এক লাখ ২২ হাজার মানুষ বাস করে। মিলান থেকে ৩০ মাইল দূরের এই শহরে ১২৪৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ডা. ডেনিলে ম্যাকিনি লিখেছেন, গত সপ্তাহে আমি পুরো হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ করে দেখে অবাক হয়েছি। আমাদের বর্তমান শত্রু তখন পর্যন্ত এতো ভয়াবহ আকারণ ধারণ করেনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড তখনো খালি ছিল, বিদ্যুৎও চলে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে। বর্তমানের মতো নিরবতা আর হাসপাতালের করিডোরগুলোতে পরাবাস্তব শূন্যতা অতীতে আর কখনো দেখিনি। আমরা এমন এক যুদ্ধ শুরুর আগ মুহূর্তে আছি, যা এখনো সেই অর্থে শুরু হয়নি। অনেকে (আমিসহ) নিশ্চিত ছিলেন না যে এ জাতীয় বর্বরতা কখনো আসবে।

আমি এখনো মনে করতে পারছি যে, সপ্তাহখানেক আগে এক রাতে একজনের পরীক্ষার (করোনা) ফল জানার অপেক্ষায় আছি। যখন আমি এটা বুঝতে পারলাম, আমার আতঙ্ক বেড়ে গেল। আমি এখন দেখতে পাচ্ছি, কী ঘটতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নাটকীয়ভাবে মোড় নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ভাইরাস ‘বিস্ফোরিত’ হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে ভয়বহ আকার নিচ্ছে। হাসপাতালে খালি করা ওয়ার্ডগুলো ক্ষণিকের মধ্যে পূরণ হয়ে যাচ্ছে। এখন হাসপাতালে বেডের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন কাউকে সার্জারি করতে গেলেও করোনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে।

চিকিৎসকের এই পোস্ট ৩৫ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। তবে  ডা. ডেনিলে ম্যাকিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, করোনাভাইরাসকে যেন কোনো ফ্লুর সঙ্গে তুলনা না করা হয়।

তিনি লিখেছেন, এখানে বাড়তি কোনো সার্জন নেই, ইউরোলজিস্ট নেই, অর্থোপেডিক্স নেই; আমরাই এই সুনামি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। আমি চিকিৎসকদের চোখেমুখে যে ক্লান্তি দেখেছি, তাতেই বোঝা যায় কী পরিমাণ চাপ তাদের ওপর পড়েছে। চিকিৎসকরা ‘বেড’ সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং রোগীদের ধরে ওঠানো-নামানোর কাজ করছেন। এমনকি তারা থেরাপিস্টদের কাজ থেকে শুরু করে নার্সের কাজও করছেন। ওদিকে নার্সরা ছোখের পানি ফেলছেন সবাইকে বাঁচাতে না পেরে।

এখানে কোনো শিফট নেই, আলাদা কর্মঘণ্টা নেই। সামাজিক জীবন বলে কিছু নেই আমাদের। পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের সঙ্গে তেমনভাবে দেখা পর্যন্ত করছি না।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এরই মধ্যে তার অনেক সহকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়ে তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এভাবে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই চিকিৎসক করোনাভাইরাসকে সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ইতালিতে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২৭ জনে দাড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপে কন্টে নির্দেশ দিয়েছেন, ওষুধের ফার্মেসি বাদে সবগুলো দোকান, রেস্টুরেন্ট ও অনুষ্ঠানের ভেন্যু বন্ধ করে দিতে।

 

সর্বশেষ

WORDPRESS PLUGIN PREMIUM FREEDownload theme freegiay nam da thattui boc vali co gian