এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা থেকে:

আনোয়ারায় ইঢাছীন হত্যা মামলার আসামিরা-শুভ চট্টগ্রাম।

কবরস্থানের মালিকানা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ মে আপন চাচাত ভাই বোনরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে  ৯ নং পরৈকোড়া ইউনিয়নের তালসরা গ্রামের যুবক মোঃ ইয়াছীন। এসময় কুপিয়ে মারত্বকভাবে আহত করা হয় ইয়াছীনের বৃদ্ধা মাসহ আরো বেশ কয়েকজনকে।

এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে ইয়াছীনের বড় ভাই শেখ ফরিদ। মামলায় আসামী করা হয় নারী পুরুষসহ ৫ জনকে। ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার মূলহোতা মাসুদা খাতুনকে আটক করে পুলিশ এবং ঘটনার পাঁচ মাস পর অপর এক পালাতক আসামী আব্দুল ছুবুর (২৭) কে নগরীর কালা মিয়া বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। বাকী তিন আসামী এখনো পালাতক রয়েছে।

ইয়াছীনের পরিবার জানায়, এই ঘটনায় আটক হওয়া মহিলা মাসুদা খাতুন জামিনে বেরিয়ে আসার পর তাদের পরিবারের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে হামলাকারীরা। মামলা তুলে নিতে ইয়াছীনের পরিবারের উপর নতুন করে হত্যা ও অপহরণের বিভিন্ন নাম্বার থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও নতুন করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ইয়ছীনের পরিবারের উপর রুজু করা হয়েছে ডাকাতি ও নারী নির্যাতন মামলা। এই যেন মরার উপর কড়ার ঘাঁ। কাদের ইন্ধনে এই মামলা হয়েছে এই নিয়ে জনসাধারণের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম কৌতুহল। ডাকাতি মামলার বাদী পক্ষের এক সাক্ষীও এই নিয়ে করেছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ। কেন থাকে সাজানো একটি ঘটনায় সাক্ষী বানানো হলো। যা একটি ফোন রেকর্ড ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে এলাকাবাসী তা জানতে পারে।

এ বিষয়ে কথা হয় পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাফর মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমি একজন ইউপি সদস্য সত্য কথা বলার আমার দায়িত্ব রয়েছে। ডাকাতি মামলা, নারী নির্যাতন মামলা এগুলো নেহায়াত একটি ষড়যন্ত্র। এই মামলা তারা করছে ইয়াছীন হত্যার মোড় ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

এই ইউপি সদস্য বলেন, এরা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে কারো জন্য আজ পর্যন্ত গ্রামে একটি শালিসি বৈঠক পর্যন্ত হয় নাই। আর আমি একজন গ্রামের জনপ্রতিনিধি আমি জানব না আমার গ্রামে কি হয়েছে। এখানে এধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। এগুলো সব মিথ্যা বানোয়াট। এই বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সর্তক রয়েছি।

আসামী আটক ও ইয়াছীনের পরিবারের উপর হয়রানীর বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম শিকদার বলেন, ইয়াছীন হত্যা মামলার অন্যতম এক আসামী আব্দুর ছবুর আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। হয়রানীর বিষয়ে তাদের বড় ভাই থানায় একটি জিডি করেছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখতেছি। আর তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছি সেটি পিবিআই’র কাছে।

ঘটনার সূত্রপাত থেকে জানা যায়, ৫ ভাইয়ের মধ্যে ইয়াছীন ছিল সবার ছোট। ঘটনার দিন ইয়াছীনের পরিবারে কেউ না থাকায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইয়াছীনের উপর হামলা চালায় মাসুদা খাতুনের পরিবার। হামলায় ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ইয়াছীনের। ঘটনায় ইয়াছীনের মাকেও কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। এই ঘটনার জন্য এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানায়। প্রশাসনও এ ব্যাপারে মূখ্য ভূমিকা রাখে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসা পালাতক আসামীরা আটক না হওয়া উল্টো ইয়াছীনের পরিবারের উপর ডাকাতি মামলা,নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে হয়রানি করায় এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। হত্যা মামলার আসামীদের এমন বেপরোয়া কর্ম কান্ডে অবাক করেছে তাদের। তারা মনে করছে আসলে এসব খুনিদের হাত কত লম্বা। এরা অপরাধ করে আবার এত সাহস পায় কি করে।

এলাকাবাসীর মতে, এসব খুনিদের কোন আশ্রয় প্রশ্রয় থাকতে নেই। এদের পরিচয় এরা হত্যাকারী। এই খুনের আসামী এবং হুমকিদাতাসহ ইয়াছীন হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত আটক করে বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানায় তারা।

শুচ/ইখ/এনা