স্টাফ রিপোর্টার :

ওয়াসার পানিতে পেট নষ্ট হচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষের। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত নানা রোগ। অথচ এ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই চট্টগ্রাম ওয়াসার।

নগরীর মাঝিরঘাট এলাকার বাসিন্দা রনি দাশ বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করছে তা বিলের পানির চেয়েও খারাপ, ময়লা ও পায়খানার গন্ধযুক্ত। যা ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না।’ দূষিত এই পানিতে শিশুদের শরীরে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রকম চর্মরোগ ও ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ।’

হালিশহর বি-ব্লক এলাকার বাসিন্দা সৈকত হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন ধরে ওয়াসার পানি আসতেছে কালো কালো। এগুলো খুবই দুর্গন্ধযুক্ত। এই দুর্গন্ধযুক্ত পানিগুলো কোনভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাইনি। তারা উল্টো বলে ওয়াসার লাইনে কোন সমস্যা নেই।’

দিদার মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ইমন বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব না। গত কিছুদিন ধরে ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করছে, তা ময়লা ও মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত। এসব একদমই ব্যবহারের অযোগ্য। এই পানি ব্যবহারের ফলে ঘরের অনেকে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টির প্রতি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সুনজর দিলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যাবে নগরবাসী।’

নগরবাসীর ভাষ্য, গত এক মাস ধরে চট্টগ্রািম ওয়াসা যেসব পানি সরবরাহ করছে তা খুব দূর্গন্ধ, কালচে রং ও ময়লাযুক্ত। এই পানি পান করা তো দূরের কথা— রান্না করা, গোসল করা, কাপড় ধোয়ার কাজেও ব্যবহার অযোগ্য।

চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি ও অপরিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলকার মানুষ পানিবাহিত  ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে।

এরমধ্যে নগরীর হালিশহর আই-ব্লক, পাঠানটুলী, বহদ্দারহাট, মাঝির ঘাট, চকবাজার ডিসি রোড, মুরাদপুর, বন্দরটিলার মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। ওয়াসার পানির কারনে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যা রীতিমতো ভয়াবহ ব্যাপার।

আক্রান্তদের মাঝে পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর ও পেটব্যাথা দেখা দিচ্ছে।  এছাড়া এই পানি থেকে জন্ডিস রোগও দেখা দিচ্ছে। জন্ডিস একটি পানিবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ মানুষের লিভার নষ্ট করে সহজে এবং এতে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘নগরীতে আমাদের ওয়াসার ৪০টি পয়েন্ট রয়েছে। প্রতি মাসে তা চেক করা হয়। আমাদের পানিতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আর কেউ অভিযোগও করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নগরে আমাদের পাঁচটি অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। কারও পানিতে যদি সমস্যা থাকে, অভিযোগ করলে আমরা সাথে সাথে অ্যাকশনে যাবো।’

শুচ/ইখ