এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা থেকে:

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিঢমের ফাঁদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল ১১নং জুইদন্ডী ইউনিয়নের খুরস্কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিনের। বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার সহকর্মীরা। 

জানা যায়, বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্টভোগা এই শিক্ষককে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার জন্য পায়নি সরকারি এ্যম্বুলেন্স। অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে চাইলে নিয়মের দোহাই দিয়ে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । ফলে এই প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে তার সহকর্মীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে জরুরি বিভাগে একটিই অক্সিজেন সাপোর্ট আছে। বিকল্প থাকলে আমরা চিন্তা ভাবনা করতে পারতাম। এছাড়াও আইনি বিষয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই রোগী যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন আমাদের এ্যম্বুলেন্সটি রোগী নিয়ে শহরে ছিল। আমাদের এ্যম্বুলেন্স ছাড়া অন্য গাড়ীতে আমাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার কোন নিয়ম নাই।

প্রধান এই শিক্ষকের মৃত্যু নিয়ে তার সহকর্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন প্রধান শিক্ষককে পর্যাপ্ত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।এজন্য আমরা খুবই মর্মহত। আমি মনে করি ওনি যদি অক্সিজেন সাপোর্টটা পেত ওনাকে আমাদের এভাবে হারাতে হতো না।

এবিষয়ে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আশিষ আর্চয্য বলেন, আমি হতবাক হয়েছি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা দেখে। একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে সরকারি এ্যম্বুলেন্স তো দূরের কথা বার বার অক্সিজেন সাপোর্টের কথা জানালেও তারা নানা অজুহাত দিল। এটি খুবই অমানবিক একটা বিষয়।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন ওনাকে নিয়ে হাসপাতালে যায় তখন হাসপাতালে ছিলনা কোন ডাক্তার। জরুরি বিভাগে একজন সহকারি ছিল তিনি এজিসি করে আমাদের রোগীর অবস্থা সিরিয়াস বলে চমেক হাসপাতাল রেফার করে। আমি অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেও অক্সিজেন সাপোর্ট পেলাম না। যা খুবই দুঃখ জনক।

শুচ/ইখ/এনা