স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম স¤পাদক ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন প্রতিপক্ষ দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর কলেজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মিরসরাই উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ আব্দুল আউয়াল তুহিনের বড়িতেও হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। খবর পেয়ে তাকে দেখতে যান গিয়াস উদ্দিন। ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হন তিনি।

হামলার শিকার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুহিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়ি ভাংচুর ও তার মোটরসাইকেল জ্বালানোর ঘটনা শুনে ভোর ৬ টার দিকে আমি তাকে দেখতে যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে ৭টার দিকে নিজামপুর কলেজের সামনে আমার উপর হামলা চালায়।

তিনি জানান, উপজেলার ২নং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক সাইদুল ইসলাম এবং ২ নং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক আশরাফুল কামাল মিঠু ২৫-৩০ জনের সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেন। এ সময় তারা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭ টার দিকে নিজামপুর কলেজের সামনে একটি নীল ও সাদা গাড়ি করে ২৫-৩০ জন যুবক গতিরোধ করে গিয়াস উদ্দিনের গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। পরে গিয়াস উদ্দিনকে গাড়ি থেকে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে করতে গাড়িতে তুলে দেয়। এত গুরুতর আহত তিনি। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে দাবি করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার উপর এই হামলা পরিকল্পিত। আমি মিরসরাইয়ের জনগণের জন্য রাজনীতি করি, যা আমাদের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সহ্য হয় না। তার নির্দেশেই আমার উপর এই হামলা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরির্দশক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আহত অবস্থায় গিয়াস উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।

তুহিন জানান, সীতাকুন্ড উপজেলা ছাত্রলীগের পদে আনতে অর্থবানিজ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক গোলাম রাব্বানীর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস তিনি শেয়ার করেন। যার প্রেক্ষিতে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী মিঠু ও সাইদুল তুহিনের মাছের খামারে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাসায় এসে ভাংচুর, লুঠপাট ও মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়।

মিরসরাই থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের উপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুচ/ইখ