স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলি এলাকার মরিয়ম ভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদ্বগ্ধ ৯ জনের মধ্যে পেয়ারা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৭ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

পেয়ারা বেগম (৬৫) ছাড়া দ্বগ্ধ অন্যরা হলেন মিজানুর রহমান (৪২), সাইফুল ইসলাম (২৫), বিবি সুলতানা (৩৬), রিয়াজ (২২), জাহান (২১), সুমাইয়া (১৮), মানহা (২), মাহের (৮)। তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাতে অগ্নিকান্ডের এই ঘটনা ঘটে বলে জানান আকবরশাহ থানার ওসি মো. জহির হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুই পরিবারের নারী ও শিশুসন্তানসহ ৯ জন দগ্ধ হন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির হোসেন বলেন, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্বগ্ধদের সবার শ্বাষনাালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য রয়েছে। মিজানুর রহমানের পরিবারের এক সদস্যের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাকি পাঁচজনকেও তারা নিজ দায়িত্বে ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন। রিয়াজুল ইসলাম ও সালমা জাহান দ¤পতিকে আমরাই চিকিৎসা দিচ্ছি।

এদিকে চমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে আগুনে দ্বগ্ধদের দেখতে এসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আমরা দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি। মোট ৯ জন পেসেন্ট আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে একজন পেসেন্ট ছিলো ভালো। ভালো বলতে ৫ পারসেন্ট বার্ণ ছিলো। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বাকি আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনের শ্বাষনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এটি খুব ঝুঁকিপুর্ণ। এর মধ্যে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা মহিলার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে আমরা আইসিউতে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। এরপরও সে মারা গেছে। বাকিদের কারো ৪৫ শতাংশ, কারো ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনাসুল হক বলেন, বাসার বিদ্যুৎ সংযোগের প্রতিটি পয়েন্ট পোড়া থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ গ্যাসের পাইপলাইন এবং রান্নাঘরের চুলা অক্ষত আছে। বাসায় গ্যাস সিলিন্ডারও নেই।

অলৌকিক ভাবে বেচে গেল ৫ দিনের শিশু :

আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলীতে মরিয়ম ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মা-বাবা দগ্ধ হলেও বেঁচে গেছে পাঁচ দিনের এক শিশু। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বার্ন ইউনিটের ৩০ নম্বর শয্যায় মায়ের সঙ্গে নবজাতককে রাখা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নবজাতকের মা সুলতানা জাহান বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়া শেষে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। রাত ৯টা ৫০ মিনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনের তীব্রতায় আমাদের রুমের দরজা ভেঙে যায়। ওই সময় আমার বাচ্চা কোলে ছিল। আগুনে আমার দুটি পা পুড়ে গেছে। কিন্তু আমার সন্তানের কিছু হয়নি। সে পুরোপুরি সুস্থ আছে।

বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগুনে বাবা-মা পুড়লেও নবজাতকটি সুস্থ আছে। তাকে মায়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে। ৪ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ওই মেয়ে নবজাতকের জন্ম হয়। তার এখনও নাম রাখেনি মা-বাবা।

শুচ/ইখ