স্টাফ রিপোর্টার,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ শুরু হয় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ওই সময়ে কোন শর্ত ছিল না। নতুন হিসেবে ওই সময়ে দরপত্রপ্রাপ্ত হয় শাপলা ও জমজম এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু ঠিক পরবর্তী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এসে জুড়ে দেয়া হয় অভিজ্ঞতার শর্ত। এতে ওই দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। এ সুযোগে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত জনবল সরবরাহ করে আসছে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।

দুদকের অনুসন্ধানে মিলেছে এমন তথ্য। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম এ তথ্য অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি বলেন, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে শর্তের মারপ্যাঁচে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শরীফ উদ্দিন বলেন, গত সোমবার এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পাঁচ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় চার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিককে। যাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জিসান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফেরদৌস ট্রেডার্স, আলী এসোসিয়েট ও মেসার্স মুনিরিয়া ফুড প্রোডাক্টস নামে চার প্রতিষ্ঠানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে আলী এসোসিয়েট ও মুনিরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের মালিক একই ব্যক্তি। তারা নিয়মিতভাবেই হাসপাতালে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। তাদের থেকে পাওয়া তথ্যগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের নাম পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, সব ঠিকাদারেরই সিন্ডিকেট আছে। যারা নিজেদের মধ্যেই আগে থেকে কাজ ভাগাভাগি করে নেন। এরপর তারা টেন্ডার ড্রপ করে থাকেন। মূলত দরপত্রে এমন কিছু শর্ত তারা দিয়ে দেন, যাতে নির্দিষ্ট এসব ঠিকাদার ছাড়া অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার পাওয়ার সুযোগ থাকে না। মূলত হাসপাতালের একটি চক্র এমন অনৈতিক কাজে জড়িত। ইতোমধ্যে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তাদেরকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সূত্রমতে, চলতি বছরে এপ্রিল মাসে দরপত্র আহ্বান করে প্রকাশ করা হয় একটি বিজ্ঞপ্তি। তাতে দরপত্রদাতার যোগ্যতা প্রসঙ্গে ৮০০ থেকে ১ হাজার শয্যার টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতালে তিন বছর সংশ্লিষ্ট মালামাল সরবরাহের শর্ত আরোপ করা হয়। যদিও দেশের প্রথম সারির আটটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কোনটিতেই নজির নেই এমন শর্তের।

মূলত ৮০০ থেকে ১ হাজার শয্যার আর কোন হাসপাতাল চট্টগ্রামে না থাকায় সব টেন্ডারেই চলে যায় এককেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের কাছে। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অনুসন্ধানেই পাওয়া গেল এমন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত শর্ত দিয়েই আউটসোসিয়েং টেন্ডার নিজেদের কব্জায় রাখতে এমন কৌশল।

দুদকের অনুসন্ধানের তথ্যমতে, গত এক যুগ ধরে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে চমেক হাসপাতালে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট প্রতি বছর কাজ পেয়ে আসছে। এসব কৌশল অবলম্বনের পেছনে জড়িত আছেন স্বয়ং হাসপাতালের টেন্ডার শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ