এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা থেকে:
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।

করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে বুধবার সকাল থেকে মরহুম নেতার জন্য ভালোবাসা জানাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের বাড়ীতে ঢল নামে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীর।

সকালে মরহুমের গ্রামের বাড়ীতে খতমে কোরআন, দোয়াও মিলাদ, মরহুমের কবরে ফাতেহা পাঠ এবং ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল সাড়ে এগারটায় মরহুমের পুত্র ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপিসহ আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অংঙ্গসংগঠনের নেতারা মরহুমের কবরে ফাতেহা পাঠ শেষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ এবং মহানগর আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কবরে ফাতেহা পাঠ এবং ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এ সময়।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছাড়াও জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চারবার। নবম জাতীয় সংসদে তিনি ছিলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

১৯৪৫ সালে আনোয়ারা হাইলধর গ্রামে সম্ভ্রাান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন বাবু। ১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হন।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তার পাথরঘাটা জুপিটার হাউজ থেকে সংগ্রাম কমিটির কর্মকান্ড পরিচালিত হতো। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামে আসার পর জুপিটার হাউস থেকে সাইক্লোস্টাইল করে প্রচার করা হয়। তার বাসা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সব জায়গায় পাঠানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভারতে যান এবং সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি দু‘দফায় চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠক এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন তিনি।

শুভ চট্টগ্রাম/শিউলি/নাবিদ