স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে :
নিখোঁজের চারদিন পর উদ্ধার হওয়া আজকের সূর্যোদয়ের চট্টগ্রাম ব্যূরোর স্টাফ রিপোর্টার গোলাম সরওয়ারের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার বা পরবর্তি যে কোন সময় মামলা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জোবায়ের সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, গোলাম সরোয়ার এখন চমেক হাসপাতালের ১৪ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তবে বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। সোমবার করা ইসিজিতে সামান্য সমস্যা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা এ নিয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার সিএমপি কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করেছি আমরা। বুধবার বা পরবর্তি যে কোন সময়ে গোলাম সরোয়ার কিংবা তার স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করবেন।

সাংবাদিক জোবায়ের সিদ্দিকী জানান, গত বুধবার রাতে নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকা থেকে অপহৃত হন সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার। চারদিন নিখোঁজ থাকার পর রোববার রাতে সীতাকুন্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় রাস্তার পাশে অজ্ঞান অবস্থায় সরোয়ারকে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সীতাকুন্ড থেকে গাড়িতে করে আনার সময় সরওয়ার কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার সাথে বেশি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বলা প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি। আগের করা সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহার করে নিয়ে সরোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অপহরণের আগে সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার নিজেদের সিটিনিউজবিডি ডটকম নিউজ পোর্টালে ক্যাসিনো, ভুমি জবরদখল ও পুলিশের দূর্নীতি বিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা এসব প্রতিবেদনের কারনে সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন করে অপহরণকারীরা। উদ্ধারের পর অবচেতন অবস্থায় উদ্ধারকারীদের পা জড়িয়ে ধরে ভাই আমি আর নিউজ করব না, আমাকে ছেড়ে দেন, আমারে আর মাইরেন না। এমন আকুতি করতে থাকেন। উদ্ধারকারীরা তার সুস্থতায় সহায়তা করছেন বলে জানালেও সেদিকে তার খেয়াল ছিল না।

পরে সোমবার চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সহকর্মী সাংবাদিকদের গোলাম সরোয়ার বলেন, একটি কক্ষে আটকে রেখে, হাত-পা ও চোখ বেঁেধ কানে তুলো দিয়ে তাকে বেত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্মমভাবে মারা হয়েছে। মারার সময় অপহরণকারীরা নিউজ আর করবি, বল নিউজ আর করবি। এমন কথা বলে নির্যাতন করে। কিন্তু কোন নিউজের জন্য আমাকে মারা হচ্ছে সেটা জানতে চাইলেও তারা বলেনি। আর এই নির্যাতনে অন্তত ৫ জন অংশ নেয় বলে জানান গোলাম সরোয়ার।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ