স্টাফ রিপোর্টার, রাউজান থেকে :

চট্টগ্রামের রাউজানে চঞ্চল্যকর কিশোর তোহেল হত্যার তদন্ত শেষে হয়নি আজও। এ হত্যাকান্ডের আড়াই বছর পরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত মামলার বাদি ও কিশোর তোহেলের বাবা মো. হারুন। মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকতে তারা বর্তমানে এলাকা ছাড়া।

জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ০৮ এপ্রিল রাতে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় কিশোর তোহেল। পরদিন সকালে পুকুর থেকে রাক্তাক্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর কিশোর তোহেলকে কুপিয়ে হত্যার আলামত পায় পুলিশ। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টা নিহত কিশোর তোহেলের বাবা হরুন বাদি হয়ে ০৯ জানের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসামী করে রাউজান থানায় মামলা করেন।

আসামীরা হলেন রাউজান ইউপির আবু বক্করের ছেলে মো. আলী আজাদ (৩৩), ফজল আলীর ছেলে মো. রুবেল (২৫), আবদুল বারেকের ছেলে আবুল কালাম, মজলিশ মিয়ার দুই ছেলে মো. খোকন (২৮) ও মো. কামরুল (৪০), মো. জানু, বানু বেগম, লোকমানের ছেলে মো. টিপু, জুনু সর্দারের ছেলে মো. ইকবাল।

৯ আসামীর মধ্যে ঘটনার দিন পুলিশ আলী আজাদ ও রুবেলকে এবং আড়াইমাস পর কামরুলকে গ্রেপ্তার করলেও তারা তিনমাস পর জামিনে বেরিয়ে আসে। আলী আজাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার দেড় দুইমাসপর ফিরোজুল হকের ছেলে রাজুকে আটক করা হয়। রাজুর ঘরে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তারা। কামরুলও জামিনে বেরিয়ে আসে। বর্তমানে এই মামলার সকল আসামী প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে মামলার বাড়ি হারুনকে। এখনো মামলাটির তদন্ত শেষ হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার সিআইডি ইন্সপেক্টর রুজিনা আকতার ও জেলা সিআইডি অফিসের উপপরিদর্শক মো. খালেদ ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। তারা একাধিক স্বাক্ষীর সাথে কথা বলেন। মামলার বাদি কিশোর তোহেলের বাবা মো. হারুন বলেন, রাউজান থানায় করা মামলার (রাউজান থানার মামলা নং- ০৭ (০৪)/২০১৮ইং) অগ্রগতি না দেখে গত ২০১৮ সালের ১১ জুলাই আমি চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পিবিআই বা সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ প্রদানের আবেদন করি।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আবেদনের একমাসপর সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন ও তদন্ত করেন। পরবর্তীতে এক সপ্তাহ পর আবারো সিআইডির এসপিসহ একটি দল তদন্তে আসেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছি।

সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর তদন্তে আসা সিআইডি ইন্সপেক্টরকে ঘটনাস্থলের অদূরে জানে আলম মনুর ফার্ণিসারের দোকানে বসতে দেওয়ায় দরজা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় অভিযোগ দিয়েছেন জানে আলম। আমি কখন কোথায় যাচ্ছি তার খবরও নিচ্ছে তারা।’ ‘সর্বশেষ তদেন্ত যাওয়া চট্টগ্রাম জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আফিসের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) রুজিনা আকতার বলেন, এটি খুনের মামলা, তাই গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার। এখনো তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সময় লাগছে। যেহেতু এটি খুনের মামলা জাবাবদিহিতা আছে। উপারে গিয়েও জবাব দিহিতা করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ০৮ এপ্রিল স্ত্রীর বড়বোনের মেয়ের বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটির জেড় ধরে মামলার বাদি মো. হারুনকে হুমকি দেন তোহেল হত্যা মামলার আসামীরা। হুমদিন সন্ধ্যায় হারুনের ছেলে তোহেল নিখোঁজ হয়। সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে হারুন বাদি হয়ে রাউজান থানায় ছেলে হত্যার মামলা করেন। মামলার বাদিসহ পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শুভ চট্টগ্রাম/শিউলি/আরাফাত