স্টাফ রিপোর্টার:

মাদকের স্বর্গরাজ্য এখন আনোয়ারা। সাগর উপকূল ও বেশ কয়েকটি উপজেলার সাথে সংযোগ সড়ক হওয়ায় ভৌগলিকভাবে আনোয়ারা থেকে ইয়াবা পাচার সহজলাভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে এখান থেকে সারাদেশে ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছেেএই উপজেলার ডজনখানেক প্রভাবশালী।

সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব, পুলিশের সাড়াশি অভিযানেও থেমে নেই মাদক ব্যবসায়ীরা। কিশোর থেকে শুরু করে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা এই ইয়াবা কান্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে আসছে। 

২০১৮ সালের ৯ই জানুয়ারির দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে ২নং বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহর নাম উঠে আসে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখে ৩১৬ বোতল বিদেশী মদসহ পুলিশের হাতে আটক হয় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগমের ছেলে আক্তার হোসেন (৩০)।

এছাড়াও ইয়াবা সেবনকালে ইসমাইল নামক এক ইউপি সদস্যকে আটক করে পুলিশ । গত ২৫ অক্টোবর রবিবার চাতরী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেমের ছেলে সোহেলকে আটক করে র্যাব। এছাড়াও যুগান্তরের ঐ প্রতিবেদনে আনোয়ারার চিন্থিত অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ পায়। যাদের অধিকাংশই ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্যমতে, উপজেলার ইয়াবা গডফাদার হিসেবে যাদের নাম আসে তাদের মধ্যে অন্যতম গহিরার হাসান মাঝি, পারকি এলাকার জালাল ও মানু। এছাড়া ৩ নং রায়পুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানে আলমের দিকেও ইয়াবা পাচারের তীর রয়েছে। 

পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, ২০২০ সালের গত ৯ মাসে মাদক উদ্ধারে আনোয়ারায় অভিযান হয়েছে ১০৬টি। তার মধ্য র্যাবের অভিযান ছিল চারটি। বাকী ১০২টি অভিযান করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ। ১০৬টি অভিযানে মোট আসামী আটক হয়েছে ৯৭জন। তার মধ্যে র্যাবের হাতে আটক হয়েছে ৬ জন। বাকী ৯১জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।

এসব অভিযানে মামলা হয়েছে ৭৪টি। মাদক উদ্ধারের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬০৩ পিস ইয়াবা। এছাড়াও দেশীয় চোলাইমদ উদ্ধার হয়েছ ৭৯৭ লিটার। বিদেশী মদ উদ্ধার হয়েছে ৪৪৩ বোতল। গাঁজা উদ্ধার হয়েছে ১ কেজি ১৬০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের বাজার মূল্য ১০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ছোট খাট মাদক ব্যবাসায়ীরা ধরা পড়লেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে রাঘব বোয়ালরা।

গড ফাদাররা প্রশাসনের জালের বাইরে থাকায় আনোয়ারায় ইয়াবার স্রোত বন্ধ করা যাচ্ছে না এমনটাই মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলের।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ/নাবিদ