খ. ম. ইব্রাহিম:
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পার্কিং এর পূর্ব পাশে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বড় একটি গুদাম ভেঙে বাণিজ্যিক মার্কেট গড়ছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইয়ুব আলী। যা রেলওয়ে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে অবৈধ এই কাজটি বৈধ করতে করা হয়েছে নানা অপকৌশল। যার সাথে জড়িত খোদ রেল কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গুদামটি ভাড়া হিসেবে ইজারা নিয়ে পুরো অবকাঠামো পরিবর্তন করে মার্কেট ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। রাতের আঁধারে নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে টিনের ঘেরা দিয়ে গুদামটি সম্প্রসারণ করে ইতোমধ্যে ৩২টি সেমি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব দোকানের কয়েকটি ৫০ লাখ টাকা হারে বিক্রিও করা হয়েছে। সেই সাথে পাশের খালি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নিয়োজিত শ্রমিকরা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী প্রথমে গুদামের সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান। এমনকি গুদামের স্ট্রাকচার (অবকোঠামো) পরিবর্তন করা বেআইনি বলে মত দেন। কিন্তু পরক্ষণে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে বলেন, এখানে গুদাম কোথায় দেখছেন আপনি, এটা তো মার্কেট। এটা মার্কেট হিসেবেই ইজারা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু রেলের নথিতে এটি গুদাম হিসেবে ইজারার তথ্য সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, নথিতে গুদাম, মার্কেট, দোকান সবই উল্লেখ আছে। আপনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে রেল থেকে। আর কে এই তথ্য দিয়েছে বলেন, আমি দেখি-বলে হুঙ্কার ছাড়েন তিনি।

সূত্রমতে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কার্যালয় থেকে সম্প্রতি ভাড়া হিসেবে এই গুদাম ইজারা নেয় শহীদ উল্লাহ বাবলু নামে এক ইজারাদার। তিনি গুদামটি বিক্রী করে দেন আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর কাছে। আইয়ুব আলী প্রভাব খাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গুদামটির ইজারা নিজের নামে করে নেন। এরপর গুদামটি ভেঙে মার্কেট বানানোর কাজ শুরু করেন তিনি।

অথচ ইজারা আইনে প্রথমত হস্তান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া ইজারা নেওয়া স্থাপনার অবকাঠামো পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনী। যা নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী। তিনি রেলের একজন নিবন্ধিত ঠিকাদারও।

আর এই প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী। মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুদাম ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া আমার এখান থেকে হয়নি। এটি হয়েছে চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের কার্যালয় হতে। আপনি সেখানে কথা বলুন। তাছাড়া জনপ্রশাসন থেকে জারী করা রুল অনুযায়ী আমার কথা বলা নিষেধ।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, গুদামটি আগে একজনের নামে ইজারা নেওয়া হলেও পরে আইয়ুব আলীর নামে ইজারা হয়েছে। এটি গুদাম হলেও পরে আইয়ুব আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এটি গুদাম, দোকান, মার্কেটসহ তিনি যা করতে চান সবই করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ভিন্ন কথা বলেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুদাম ঘর ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি আমি শুনেছি। ইজারাদার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী কথিত নেতার একটি সিন্ডিকেট নানা অপকৌশলে রেলের হাজার হাজার কোটি টাকার স¤পদ লুটপাটে নেমেছেন। উক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলমন্ত্রী নির্দেশ প্রদান করলেও কোন পদক্ষেপ নেই।

শুভ চট্টগ্রাম/শিউলি