মো. কমরুদ্দীন, চন্দনাইশ থেকে :

দক্ষিণ চট্টগ্রামে মসজিদের উপজেলা খ‍্যাত চন্দনাইশ। এরমধ্যে এই উপজেলার ফতেনগর সিকদার বাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তুরস্কের ব্লু  মসজিদের আদলে নির্মিত হচ্ছে ওসমানী সম্রাজ্যের নান্দনিক অটোমানের স্থাপত্য শৈলীর দৃষ্টিনন্দন ফতেনগর সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ।

চন্দনাইশ উপজেলার ফতেনগর গ্রামে সিকদার বাড়ি জামে মসজিদটি কবরস্থান, পুকুরসহ ২ একর জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে । গত ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে অদ্যাবধি নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে মসজিদের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পুরো এ বছর অতিবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তুরস্কের ব্লুু (নীল) মসজিদের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শিকদার বাড়ি জামে মসজিদটি চন্দনাইশ উপজেলায় নয় পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে বিজ্ঞমহল অভিমত ব্যক্ত করেন। মসজিদের পশ্চিমপাশে পুকুরের পানি ঘেঁষে মিম্বর নির্মিত হওয়ায় পশ্চিম পাশ থেকে মসজিদটি দেখতে আরো দৃষ্টিনন্দন মনে হয়। যেন পানির উপর মসজিদটি ভেসে আছে। চন্দনাইশ উপজেলায় ৩ শতাধিক মসজিদের মধ্যে এটিই সর্বাধিক ব্যয় বহুল মসজিদ।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী থেকে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের দুপাশে দৃষ্টিনন্দন, ব্যয়বহুল ২৬টি মসজিদ রয়েছে। একইভাবে গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট থেকে বরকল ব্রিজ পর্যন্ত শহীদ মুরিদুল আলম সড়কের দুপাশে ২৭টি মসজিদ থাকলেও সিকদার বাড়ী জামে মসজিদটি সবার নজর কাড়ে কারুকার্য ও শিল্পীর তুলির পরশের কারণে।

উপজেলার ফতেনগর সিকদার বাড়ীর প্রয়াত প্রতিথযশা আইনজীবী বদিউল আলমের একমাত্র ছেলে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কংগোর অনারারি কন্সালন্টেট জিয়া উদ্দিন আদিল নিজস্ব অর্থায়নে তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে বিগত ৬ বছর ধরে নির্মাণ শৈলী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী সোহেল মো. শাকুর।

তিনি বলেন, অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন, সব ধরণের কারুকার্য সম্পন্ন এ মডেল মসজিদটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে ৬ বছরের অধিক সময় ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদিন এ দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখার জন্য শত শত দর্শনার্থী উপস্থিত হয়ে নিজের ছবিসহ মসজিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দিয়ে ভাইরাল করে তুলেছে।

জিয়াউদ্দিন আদিলের একান্ত ঘনিষ্ঠজন গোলাম আজাদ শিশু জানান, ধর্মীয় মূল‍্যবোধ এবং জন্মস্থানের প্রতি অবোধ ভালোবাসার কারণে জিয়াউদ্দিন আদিলের এ উদ্যোগ। মসজিদটিতে পাশাপাশি থাকছে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সেখানে নারী পুরুষের জন্য পৃথক অজু, নামাজের ব্যবস্থা, লাইব্রেরী, গবেষণা, দ্বীনি দাওয়াতের কার্যক্রম, কোরআন তেলওয়াত, হেফজখানা, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের আবাসন ব্যবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসসহ সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক কথায় সরকারি মডেল মসজিদগুলি হবে পুর্ণাঙ্গ একটি প্রতিষ্ঠান, সেখানে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা থাকবে বলেও জানান তিনি।

শুভ চট্টগ্রাম/শিউলি/কমরু