বিশেষ প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে আলুর গায়ে যেন আগুন লেগেছে। প্রতি কেজি আলু ৫০ টাকা দাম শুনেই আঁতকে উঠছে ক্রেতারা। সেই সাথে টমেটোর দামেও বিক্রয় হচ্ছে মাছ-মাংস। প্রতি কেজি টমেটো এখন বিক্রয় হচ্ছে ১৪০ টাকায়। একই দামে বিক্রয় হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ ও মুরগী।

অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও চট্টগ্রামের বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রী হয়েছিল ৩০ টাকায়। আর টমেটো বিক্রী হয়েছিল ৯০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। আর আলুর দাম বেড়েছে ২০ টাকা। যা এর আগে কখনো এত দামে আলু বিক্রী হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে প্রতিকেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রয় হচ্ছে ১২০-১৩- টাকায়। আর মুরগী প্রতি কেজি বিক্রয় হচ্ছে ১১০ টাকায়। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে মানুষ না কিনে পারছে না আলু ও টমেটো। শুধু আলু ও টমেটো নয়, ৫০-৬০ টাকার কম দামে বিক্রয় হচ্ছে না কোনরকম সবজিও। এতে ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা মফিজুর রহমান বলেন, শীতকাল শুরু না হলেও বাজারে শীতকালীন অনেক সবজি চলে এসেছে। কিন্তু এসব সবজির দাম খুব চড়া। ৬০ টাকার কমে কোন সবজিতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ গ্রামের সবজি চাষীরা সবজির মূল্য পাচ্ছে না। সেখানে শহরের তুলনায় সবজি বিক্রয় হচ্ছে দুই তৃতীয়াংশ কম দামে। সংঘবদ্ধ চক্রের হাত বদলের কারনে শহরে সবজির দাম চার-পাঁচ গুণ বেশী।

নগরীর কাজীর দেউরি কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফ মোল্লা বলেন, উত্তরবঙ্গে বন্যা হওয়ার কারণে সব ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে আগের মত সবজি না আসায় এখন দাম একটু বাড়তি। কাছের গ্রাম থেকে কিছু সবজি আসছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি থাকায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কয়েকটি কাচাবাজর সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি বরবটি বিক্রয় হচ্ছে ৮০ টাকা। কাঁকরোলে ৮০ কিংবা ৯০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স, তিতা করলা, বেগুন ৯০-১২০ টাকা, শসা, পেপে, চিচিঙ্গা, কুমড়া, লাউ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাঁজর কেজি প্রতি ১০০ টাকা, শিম দেড়শ টাকা, মুলা ৬০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। আর কাঁচামরিচ এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছে ২০০ টাকা।

সবজির দাম যখন আকাশ ছুঁইছুঁই, তখন হাটবাজারে শাকও ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এক আঁটি লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। পুঁই শাকও বিক্রি হচ্ছে এই দামেই। ছোট এক আঁটি পালংশাক বিক্রি হতে দেখা গেছে ২৫ টাকায়।

এদিকে হঠাৎ দেশের আলুর বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এ নিয়ে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সরকারি সংস্থাটি চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এর কোন প্রভাব চট্টগ্রামের বাজারে এখনো পড়েনি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর। নির্দেশনা অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা আর হিমাগার পর্যায়ে কেজি ২৩ টাকা বিক্রি করতে হবে।

নির্দেশনায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে হিমাগার, পাইকারি বিক্রেতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাসহ তিন পক্ষই যাতে সবজিটি বিক্রয় করেন সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে ডিসিদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে। নির্দেশনা না মানলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ মৌসুমে একজন চাষির প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা। উৎপাদন থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচ ধরে এক কেজি আলু হিমাগার পর্যন্ত সংরক্ষণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২১ টাকা।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ