স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রামে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার ছেলেসহ দুই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একজন বিকাশ এজেন্ট। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এ হত্যাকান্ডে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর অলংকার এলাকার আলিফ হোটেল সংলগ্ন গলি থেকে থেকে বিজয় কুমার বিশ্বাস (৩২) নামে ওই বিকাশ এজেন্টের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে নিঁখোজ ছিলেন তিনি। নিহত বিজয় কুমার বিশ্বাস ইপিজেড নেভী কলোনীর সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, বিজয় কুমার বিশ্বাস বুধবার সকালে নেভি গেটের নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া না গেলে স্বজনরা পাহাড়তলী থানায় বিকেলে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বৃহ¯পতিবার সকালে তার বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায়।

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে কোন একসময় বিজয়ের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে যায় দুবৃর্ত্তরা। তাকে হত্যা করার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে তারা। পরে সন্দেহ এড়াতে বস্তার মুখে কাগজ-ককশিট দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।

পরিবারের দাবি, নগরীর ইপিজেড এলাকায় বিকাশের ব্যবসা করতেন বিজয়। তার ব্যাগে সব সময় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা থাকতো। টাকার লোভে পূর্বপরিচিত কেউ তাকে হত্যা করেছে। আট মাস আগে তার বিয়ে হয়। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকার আর্টিলারী সেন্টার মাঠের পাশে একটি খাল থেকে মিজানুর রহমান লিটন (৫০) নামে এক ব্যক্তি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে। তার পিতার নাম আব্দুল লতিফ। তিনি পুলিশের সাবেক এএসপি। বর্তমানে তিনি হালিশহর বি-বøক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, হালিশহরের আর্টিলারী সেন্টার মাঠের পাশে খাল থেকে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান লিটনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের শরীরে ৬টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত লিটন জমির বেচা-কেনার কাজ করতেন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে তার হার্ডওয়ারের দোকান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মো. আব্দুল হামিদ রাশেদ নামে এক ব্যক্তি খালের মধ্যে লাশ পড়ে থাকতে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। পরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা জানায়, নিহতের বাম পাঁজরের নিচে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই হাতের বাহুতেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম উপস্থিত হয়ে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে। বৃহ¯পতিবার ভোরে লাশটির সুরতহাল তৈরি করে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রæতার জের কিংবা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। এ দুই দিক বিবেচনা করে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

এদিকে মিজানুর রহমান লিটনের লাশ তার বাড়ি রহমানবাগ আবাসিক এলাকায় বৃহ¯পতিবার সকালে পৌঁছানোর পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওসি রফিকুল জানান, মিজানুরের ছোট ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। লাশ এলাকায় পৌঁছার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ