স্টাফ রিপোর্টার :
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকান্ডে বরখাস্ত হওয়া টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সাথে কারাগারে আইনজীবী এবং পরিবারের কোনো সদস্য দেখা করা তো দূরের কথা, মুঠোফোনে যোগাযোগও করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। ওসি প্রদীপ বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ বন্ধ হওয়ার পর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার সুযোগ চেয়ে আসামিপক্ষে আবেদন করা হলে আদালত এই আদেশ দেন।

প্রদীপের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, করোনার কারণে পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবিদের প্রদীপের সাথে দেখা করা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমরা কারাবিধি মেনে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের আবেদন করেছিলাম। অন্য আদালতে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা চলমান থাকায় আদালত সেটি মঞ্জুর করেননি। চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছিলাম আদালত যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে পূর্বের আদেশ বহাল রেখেছেন।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, চিকিৎসা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কারাগারে চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। তারাই তার চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া যদি অন্য কোন সমস্যা থেকে থাকে সেই বিষয়েও প্রদীপের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ডিআইজি প্রিজনের রেফারেন্সে কারা কর্তৃপক্ষের একটি চিঠি আদালতে পৌঁছলে আদালত কারাবিধি অনুসরণ করে ওসি প্রদীপের সাথে তার আত্নীয়স্বজন এবং আইনজীবী কাউকে দেখা করতে নিষেধ করে আদেশ জারি করেন।

আত্নীয়-স্বজন কিংবা আইনজীবীর দেখা করা বন্ধ হলে আসামিপক্ষ আদালতে মুঠোফোনে যোগাযোগের অনুমতির আবেদন করেন। কিন্তু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের আলাদা নীতি রয়েছে, খুন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অন্য আদালতে প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় তার বিষয়েও ওই নীতি বলবৎ থাকবে বলে জানান দুদকের আইনজীবীরা।

শুভ চট্টগ্রাম/ইখ