আব্দুল্লাহ আল-ফারূক, সীতাকুণ্ড:

সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী শনিঠাকুরপাড়ায় ৫নং ওয়ার্ড থেকে একরাতে দুই দফায় জেলেদের আহরণকৃত ইলিশ লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় বুধবার রাত ২টার দিকে স্থানীয় ভাটিয়ারী চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ জেলেরা। এ সময় তারা দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও লুটের ঘটনায় প্রতিকার দাবি করে।

পরে চেয়ারম্যান থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জেলেরা বাড়িতে ফিরে যায়। এঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার সময় সীতাকুণ্ড থানায় সুনিদির্ষ্ট চারজনসহ অজ্ঞাত ১২জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে জেলে খোকন দাশ।

মামলায় আসামিরা হলেন, মো. ওয়াসিম(৩৩), মো. রাশেদ(৪০), মো. আমজাদ(৩০) ও মোহাম্মদ আলী মেহেদী(৩৫)। মামলার পর ঘটনার মুল হোতা মোহাম্মদ আলী মেহেদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই এলাকার জেলে সর্দার বাদল দাশ জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে সন্ত্রাসীরা কিরিচসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের কে বড় ইলিশ দিতে বলেন। এসময় ঘাটে থাকা ৫০ হাজার টাকা দামের একমন ইলিশ লুট করে নিয়ে যায়। পরে রাত তিনটার দিকে সন্ত্রাসীরা আবারও গিয়ে ২৮০কেজি ইলিশ নিয়ে যায়। এঘটনায় স্থানীয় জেলেরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। পরে বিক্ষুব্ধ জেলেরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাজিম উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও করে।

বাড়ি ঘেরাওয়ের কথা স্বীকার করে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্দ জেলেদের শতাধিক নারী-পুরুষ তার বাড়িতে এসে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ দ্রুত সময়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তদন্ত সুমন বনিক বলেন, ইলিশের মৌসুমে জেলেদের ওপর একাধিক চাঁদা দাবিসহ তিনটি মামলা হয়েছে। নিরীহ জেলেদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে মাছ লুট হওয়ার মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনা শুনার পর দ্রুত একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা। এর আগে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী ও ভাটিয়ারী ইউনিয়নে জেলেদের মারধর ও চাঁদাদাবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা হয়েছে।