নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বেচে আমরা ২০০০ সালের মধ্যেই উন্নত দেশে উন্নীত হতাম। অবশ্য তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নত দেশের কাতারে পৌছেছি। এর পেছনে তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তার মাঝে বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত তৃণমূল এনডিএমের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও গণতন্ত্রের মানস কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে “উন্নয়নের বাংলাদেশ এবং একজন শেখ হাসিনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মৃত্যুর হারের চেয়ে আমাদের মৃত্যুর হার অনেক কম। দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শেখ হাসিনার জন্মদিন আমাদের মাঝে আসবে। শেখ হাসিনা যাতে শত বছর বেঁচে থাকে তার জন্য দোয়া করছি।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্য নিকটাত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরের ধানমন্ডীর বাড়ীতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা অনেকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছি, তার কন্যা শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতি করছি। বঙ্গবন্ধু এদেশের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখেছেন এবং অনেক বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন না কোন বাঙ্গালী তাকে হত্যা করবে। জার্মানীতে থাকার কারণে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা প্রাণে বেঁচে গেছেন। ১৯৮০-৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মলনে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তখন লক্ষ জনতা তাকে অভ্যর্ত্থনা জানিয়েছন। তিনি খুজে পেয়েছেন বাঙ্গালী জাতির মধ্যে তার মা ও বাবাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্ব এবং একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ কার্যত দেশকে এই অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-তৃণমূল এনডিএম এর চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জননেতা খোকন চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যখন দেশে ক্রমে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ঠিক এর শুরু থেকেই এ যুদ্ধের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত করেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সংক্রমণ রোধে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে আসবে জেনেও, দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে নিরাপদ করার প্রয়াসে নির্দেশ দেন ‘ঘরে থাকার’। অর্থনীতি থেকে শুরু করে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় সবকিছু থমকে দেয়ার বৈশ্বিক এই দুর্যোগেও বিরতিহীন যিনি শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অচেনা এই দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে সমাজের সব শ্রেণির জন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিনিয়তই ‘কিছু না কিছু’ বন্দোবস্ত করে চলেছেন তিনি।

চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান দুই বারের সফল মন্ত্রীকে আবারো মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে উল্লেখ করেন জননেতা খোকন চৌধুরী। সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। আর প্রধান বক্তার বক্তব্যে তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (তৃণমূল এনডিএম) এর মহাসচিব মাওলানা আবদুল হান্নান বলেন, শেখ হাসিনার ডায়নামিক লিডারশিপ দেশকে অন্যন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নসহ অনেক বিষয়ে বিশ্বের বহু দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ।

অতিথির বক্তব্যে রাশিয়া আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহাব লিটন বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো নির্মাণ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কারণে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। এ পর্যন্ত কোনো হামলা-হুমকি ও বাধা তাঁকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। অকুতোভয় সাহসী জননন্দিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল।

নাছির উদ্দিন আহমদ ও পারমিতা ঘোষের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, মো. সোলায়মান, সাইফুল ইসলাম রায়হান, দিলীপ দাশ, ফরিদ আহমদ অমৃত, এডভোকেট আবদুল্লাহ বাগমার, রাখাল চন্দ্র দে। বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, প্রণব চৌধুরী. মো. ফরিদুল আলম, যুগ্মমহাসচিব খোরশেদ আলম, প্রণব চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আবু জাফর বাবু, মোখলেছিন আকতার, মেজবাহ উদ্দিন হিরণ, মাওলানা নাছির উদ্দিন শেখ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন, রুনা খানম, সুলতানা বেগম রুপা, শিল্পী আকতার, সাহিদুল আলম।