আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। বন্ধ রয়েছে রান্না-বান্নার কাজ। ফলে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটছে অনেকে। মৎস্য প্রজেক্টের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সবজির ক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে চাষিরা।

শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলে এসব কথা জানান ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সীতাকুণ্ডের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়ক ও বসত বাড়িতে পানি ওঠে রান্না বান্নাসহ সহ চলাচলের চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও আউশ ধান, আমনের বীজ তলা ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষক পরিবারগুলো। ভেসে গেছে পুকুরেরও মৎস্য প্রজেক্টের মাছ। বৃষ্টি আরো কয়েকদিন এভাবে থাকলে বাকি সবজিগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৈয়দপুর, মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাপুর, ছড়াকুল, গুপ্তাখালী, বাংলাবাজার, বাড়বকুণ্ডের মান্দারীটোলা, ভোলাইপাড়া, চৌধুরীপাড়া, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আকিপুল, জমাদারপাড়া, নুনাবিল এবং দারোগাহাট ভরপুর ও বগাচতর টেরিয়াইল এলাকা গুলো বেশিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সীতাকুণ্ড পৌরসদরের শেখপাড়া, শেখনগর, ইদিলপুর, শিবপুর, বারৈয়াঢালা, মাদামবিবিরহাট, কুমিরা, সোনাইাছড়ি, সলিমপুর ও ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এসব এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রান্না-বান্না করতে পারছে না। শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পোকা-মাকড় ও সাপের ভয়ে রাতে ঘুমতে পারছে না অনেকে । আবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিকট আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এসব এলাকার কোন ত্রাণ পৌছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।