নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম):

দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পর ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম নিয়েও হেফাজতের দু‘গ্রুপের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিরসনে ফটিকছড়ি সাংসদ ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর এমপির হস্তক্ষেপে সমঝোতায় বসে দু‘গ্রুপ।

সমঝোতায় উভয় পক্ষ কোন প্রকার সভা, সমাবেশ, মিছিল বা আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এমন কোন কার্যকলাপ করবেন না বলে সম্মত হয়। করলে এই বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সায়েদুল আরেফীন শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৮ মে আল-জামিয়া নছিরুল ইসলাম নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মুহাম্মদ ইদ্রিছ ইন্তিকাল করলে মুহতামিমের পদটি শুন্য হয়। তারই প্রেক্ষিতে একজন মুহতামিম নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা হেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েবে মুহতামিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মজলিশে শুরার সভা আহবান করার জন্য অনুরোধ জানান ওই মাদ্রাসার মোতাওয়াল্লী এবং সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফি।

কিন্তু তিনি কোন উদ্যোগ নেননি বরং গড়িমসি করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন বিধায় মাদ্রাসার শুরা কমিটির সভাপতি ও মুতাওয়াল্লীর ক্ষমতাবলে আল্লামা শফি গত ৭ জুন বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর নিজ কার্যালয়ে মজলিশে শুরার সভা আহবান করেন। উক্ত সভায় উপস্থিত শুরা সদস্যগণের সর্বসম্মতিক্রমে এবং বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অনুপস্থিত সদস্যগণের সম্মতি নিয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহকে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়।

এ নিয়োগ অবৈধ বলে অগ্রাহ্য করে দায়িত্বরত নায়েবে মুহতামিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান কাসেমী আদালতের আশ্রয় নেন। কিন্তু আদালত দু‘পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে নবনিযুক্ত মুহতামিম মাওলানা ছলিম উল্লাহ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ৭২ মাসের বাসা ভাড়া বকেয়াসহ নানা অভিযোগে নায়েবে মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন।

এরপর থেকে মাওলানা ছলিম উল্লাহ এবং হাবিবুর রহমান কাসেমীর পক্ষে এলাকাবাসী বিভক্ত হয়ে পাল্টা-পাল্টি প্রচার-অপপ্রচার প্রতিযোগিতা শুরু করে। ফলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠে। তাই প্রশাসন মাদ্রাসার নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যা¤পাসে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা বসিয়েছে। পাশাপাশি বিজিবিও টহল দিচ্ছে।

আর এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী হস্তক্ষেপ করেন এবং উভয়পক্ষকে উপজেলা প্রশাসনে সমঝোতা বৈঠকের আহ্বান করেন। এতে ফেসবুকে পোস্ট, লাইভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাদ্রাসার সুনাম বিনষ্ট হয় এমন কোন বিষয় নিয়ে কোন পক্ষ কোন বক্তব্য দিবেন না বলে সমঝোতা হয়। সমঝোতালিপিতে মো. ছলিমুল্লাহ ও মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী সহ উভয় পক্ষের তিন জন করে সাক্ষী এই অংগীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব, নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র সিরাজদৌল্লা, ফটিকছড়ি থানার ওসি মো: বাবুল আক্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।