নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশবরেণ্য আলেম আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম পদ ছাড়াও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরো তিন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যেগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে সর্বশেষ বুধবার ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখীন হন তিনি।

ছাত্রদের দাবি মোতাবেক বুধবার রাতেই মাওলানা আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকালে আল্লামা শফী স্বেচ্ছায় মাদ্রাসার মুহতামিম পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেন আল্লামা শফী।

এতে শূন্য হয়ে পড়ে চার পদ। এগুলো হচ্ছে মাদ্রাসার মুহতামিম বা মহাপরিচালক, হেফাজতে ইসলামের আমীর, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এবং আল-হাইআতুল উলূয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান। এরমধ্যে শনিবার বাদ আসর শূরা মজলিসের জরুরি বৈঠকে মাদ্রাসা পরিচালনায় তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও পদ শূন্য রয়ে যায় সব। আর এসব পদে কে বা কারা আসছেন সেদিকেই নজর এখন সবার।

এরমধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমীর হিসেবে তিন জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এরা হলেন- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, হেফাজতের ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী এবং বর্তমান মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী। আর কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং সরকার স্বীকৃত সম্মিলিত বোর্ডের প্রধান হিসেবে আলোচনায় আসছেন বেফাকের সহ-সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী ও নুরুল ইসলাম, ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ আরো কয়েকজন।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সমপাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, শূরা আছে- তারাই ঠিক করবেন পরবর্তী আমীর কে হবেন। হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো আমীর পরিবর্তন হয়নি। এখন বৈঠক করে ঠিক করা হবে।

এদিকে হেফাজতের আমীর যিনি হবেন তিনিই হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম থাকবেন এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাই হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক থেকে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই হেফাজতে ইসলামের হাল কে ধরবেন সে প্রশ্নটাও সামনে চলে আসে। এখন শাহ্‌ আহমদ শফীর মৃত্যুতে তা আরো জোরালো হয়েছে। তবে মাদ্রাসার যিনি প্রধান হবেন তিনিই হেফাজতে ইসলামের আমীর হবেন এমন কোনো বিধান নেই। সংগঠনের গঠনতন্ত্রেও এমন কিছু উল্লেখ নেই। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবেই শফী হুজুরকে আমীর বানানো হয়েছিল।

সূত্রমতে, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধানই জামিআতিল কওমিয়ার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে হিসাবে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) প্রধানের পাশাপাশি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন আল্লামা শফী। একইসঙ্গে তিনি ২০১৭ সালে সরকার স্বীকৃত সম্মিলিত বোর্ড আল-হাইআতুল উলূয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যানও নিযুক্ত হন।

সরকার স্বীকৃত এই সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে রয়েছে আরো পাঁচটি বোর্ড। এগুলোর একটি হচ্ছে চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়া চট্টগ্রাম। এই ছয় বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত সব দাওরায়ে হাদিস কওমি মাদ্রাসা সম্মিলিত বোর্ড আল-হাইআতুল উলূয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার অধীনে পরীক্ষা দিয়ে থাকে।

এ ছাড়া ২০১০ সালের ১৯শে জানুয়ারি হাটহাজারী মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠিত হয়। তখন এর আমীর মনোনীত হন মরহুম শাহ্‌ আহমদ শফী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।

২০১৩ সালের এপ্রিলে ব্লগারদের শাস্তি এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধানসহ ব্লাসফেমি আইন করার দাবিতে অনুষ্ঠিত লংমার্চ এসে রাজধানীর শাপলা চত্বরে জমায়েত হওয়ার পর হেফাজতে ইসলাম প্রথম দেশব্যাপী নজর কাড়ে।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আল্লামা শফী হুজুরের মৃত্যুতে হেফাজতে ইসলামের আমীর পদটি শূন্য হয়ে যায়। আমরা হুজুরের জানাজা-দাফন শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈঠক করেছি। আর এতে সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা দ্রুত হেফাজতে ইসলামের সম্মেলনের ডাক দেবো।