নিজস্ব প্রতিবেদক :

কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার জারিকৃত এক পরিপত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে কিছু না বললেও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তবে তৃতীয় দিনের মত সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদের মাইকে মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে৷ ছাত্ররা কেউ বাইরে থাকবে না, সবাই ক্লাসে মনোযোগ দাও।’ এসময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

এ সময় বাবুনগরীর পাশে ছিলেন মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আল্লামা শেখ আহাম্মদ। যিনি গত সম্প্রতি শুরা কমিটির বৈঠকে বাবু নগরীর জায়গায় মাদ্রাসার সহাকারী পরিচালক নিযুক্ত হন। এরআগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্ররা অবরুদ্ধ করে রাখে এশিয়ার বিখ্যাত আরবি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা।

এদিকে মাদ্রাসার এমন পরিস্থিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে শুরা কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়। এরপর প্রথমে মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সম্মতিতে তার পুত্র মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

পরে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শুরা কমিটির সদস্যরা মহাপরিচালকের পদ থেকে আল্লামা আহমদ শফীকে সসম্মানে অব্যাহতি দিয়ে মাদ্রাসার উপদেষ্টা করেন। পরে আল্লামা আহমদ শফীকে ফায়ার সার্ভিসের এম্বুলেন্স যুগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপর থেকেই মূলত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে।