নিজস্ব প্রতিবেদক :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে। আর আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেই শুভক্ষণ। এদিন ঢাকের বাদ্যে, শঙ্খ-উলু ধ্বনির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহন জানানো হয়। ওই সময় পূজামন্ডপে প্রতিমায় শিল্পীর তুলিতে ফুটে ওঠে ত্রিনয়ন। সূচনা ঘটে দেবীপক্ষের।

এবার মহামারী করোনায় প্রভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা মন্ডপগুলোতে নেই আয়োজনের তোড়জোড়। মন্ডপগুলোতে থাকছে স্বাস্থ্যবিধির বিভিন্ন নির্দেশনা। সরকার ও কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির নির্দেশনা ও নিরাপত্তা মেনে সীমিত পরিসরে শাস্ত্রানুসারে হবে পূজার আয়োজন।

প্রতিবছর মহালয়া উদযাপনের মধ্যে দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটলেও এ বছর পঞ্জিকানুসারে আশ্বিনমাস অধিমাস বা মলমাস হওয়ায় কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। বিগত বছরগুলোতে ভাদ্রের সময়ে প্রতিমা তৈরি ও মন্ডপ সাজসজ্জার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেলেও এবার তেমন একটা উৎসাহ উদ্দীপনা নেই আয়োজকদের মাঝে।

প্রায় মন্ডপে এখনো শুরুই হয়নি প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিবছর মহালয়ায় দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উপজেলার কড়লডেঙ্গার সন্ন্যাসী পাহাড় চূড়ায় মেধস মুনির আশ্রমে পূণ্যার্থী, পূজার্থী ও ভক্ত- দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আগের মতো জনসমাগম না হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি বলে জানিয়েছেন মেধসাশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহালয়া উদযাপিত হয়ে আসছে মেধসাশ্রমে। এবার এতে কিছুটা ভাটা পড়েছে করোনাকালের কারণে। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলবে এ সংকট থেকে মুক্তির জন্য মায়ের আরাধনা। এ বছর পঞ্জিকানুসারে মহালয়ার একমাস পর আগামী ২১ অক্টোবর পঞ্চমী তিথি শেষে ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ষষ্ঠী তিথিতে হবে দেবীর বোধন।

দেবী দুর্গা এবার আসছেন দোলায়। ২৩ অক্টোবর সপ্তমী, ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২৫ অক্টোবর মহানবমী ও ২৬ অক্টোবর শুভবিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর গজে গমন। শাস্ত্র মতে-‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’। জানা গেছে, গত বছর চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১ হাজার ৮৭৪টি মন্ডপে এবং মহানগরের ১৬টি থানায় ২৭০টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

বোয়ালখালীতে এবার ৮৩টি সার্বজনীন ও ২৭টি ব্যক্তিগত পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ব্যাপক কোনো আয়োজন এবার থাকছে না। শাস্ত্রানুসারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

দর্শনার্থীদের সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজার মূল আয়োজন ব্যতীত জনসমাগম হয় এমন কোনো বাড়তি আয়োজন করা হচ্ছে না। সাত্ত্বিক আয়োজনের মধ্যে দিয়েই বৈশ্বিক মহামারী থেকে মুক্তির জন্য মাতৃ আরাধনা করা হবে।

প্রতিমাশিল্পী বাসুদেব পাল মুঠোফোনে জানান, প্রতি বছর যেইসব মন্ডপে প্রতিমা গড়ে আসছি, সেইসব মন্ডপ থেকে এখনো পর্যন্ত তাগাদা পায়নি। হয়তো আয়োজক কমিটির লোকজন এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে হাতে আরো প্রায় দুইমাস সময় রয়েছে। যেহেতু এবার দুর্গাপূজা কার্তিক মাসের ৪ তারিখ শুরু হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার জানান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনার মধ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা, সকলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, দর্শনার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, পূজামন্ডপে নারী-পুরুষের যাতায়াতের আলাদা ব্যবস্থা করা, পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা রাখা, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। এসব নির্দেশনা মেনে পূজার আয়োজন চলছে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা ছাড়া মহানগরের ২৫৭টি পূজামন্ডপের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া করোনাকালে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল জাতীয়তাবাদি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-তৃণমুল এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জননন্দিত জননেতা খোকন চৌধুরী চট্টগ্রাম তথা সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীর প্রতি শুভ মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সোমবার সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তিনি শারদীয়া দুর্গাপুঁজা উপলক্ষে দেশ ও জাতীর মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্ঠানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের সহযোগী হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন কাল থেকে কালান্তরে। দূর্গোৎসব বাঙালী জাতীর সার্বজনীন উৎসব। এই দুর্গাপূঁজায়ও সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।