নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্য ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তগুলোতে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেছে আড়তদাররা। ফলে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ না পেয়ে খুচরা বাজারেও বেড়ে গেছে দাম। এতে ক্রেতাসাধারণের নাভিশ্বাস দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানার জের ধরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সোমবার সকাল থেকে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রাখে আড়তদাররা। অভিযান বন্ধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য আড়ত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।

খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংগঠন থেকে পেঁয়াজের আড়ত বন্ধ রাখার কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। মূলত জরিমানার শিকার ব্যবসায়ীরা আড়ত বন্ধ রাখার পর সব আড়তই বন্ধ করে দেওয়া হয়। পণ্যের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে আড়তদারদের ভূমিকা নেই বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমদানিকারকদের উপরই নির্ভর হতে হয় আড়তদারদের। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযান না করে শুধু খাতুনগঞ্জে আড়তদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা অযৌক্তিক। অভিযান বন্ধের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আড়ত বন্ধ রাখার কথা বলছেন আড়তদাররা।

আড়তদারদের দাবি, বর্ডারে সিন্ডিকেট ব্যবসা হচ্ছে। সিন্ডিকেট ব্যবসার কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেচাকেনা চলছে। তারা মূলত আমদানিকারক থেকে পণ্য ক্রয় করেন। এসব পণ্যর ব্যবসা করে পাচ্ছেন কিছু কমিশন। আমদানিকারকেরা বেচাকেনার সময় তাদের কোন ধরনের কাগজপত্র দেননা। যার ফলে পণ্যের বিপরীতে তারা কোন কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা প্রশাসনকে দেখাতে পারেন না।

তাছাড়া ব্যবসায়ী সমিতিকে না জানিয়ে প্রশাসনের এমন অভিযান কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের নিয়ম আগে ব্যবসায়ী সমিতির সাথে আলাপ-আলোচনা করা। কোন ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়া ব্যবসায়ীদের জরিমানার মুখে ফেলা কোনভাবেই কাম্য নয়।

পেঁয়াজের আড়তদার মেসার্স মোহাম্মদিয়া বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী হাজী মিন্টু সওদাগর বলেন, কখনো বেশি আবার কখনো ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বেচাকেনা চলে। কিন্তু যখন কম দামে বেচাকেনা চলে তখন প্রশাসন আসেন না। যখন একটু বেশি দামে বিক্রী করে তখন প্রশাসন আড়তদার ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা করে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ-রসুনের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কোন হাত নেই। আপনারা বর্ডারে গিয়ে দেখেন সিন্ডিকেট কাদের হাতে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এসেছে চলেও গেছেন। আগে ছিল পঁচিশটি বাণিজ্য বিতান, বর্তমানে আছে ১২০টিরও বেশি। যারা সিন্ডিকেট তাদের প্রতিনিধি দু’দেশেই আছে। এপারের টাকাও তাদের, ওপারের টাকাও তাদের।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, আমি তাদের কাছে আমদানির কাগজপত্র চেয়েছি। তারা তা দেখাতে পারেননি। যারা আমদানিকারক থেকে মাল ক্রয় করেন তাদেরও কোন দলিল নেই। তারা ফোন কলে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। মুখে মুখে তো কোন ব্যবসা হতে পারে না। পণ্যের বিপরীতে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাই আমি আইননুযায়ী জরিমানা করেছি।

তিনি বলেন, আড়তদাররা প্রতিনিয়ত বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। নিয়ম না মেনে এবং ক্রয় ¯ি¬প না রেখে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রেতাদের কোন ছাড় নেই। ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক।

উল্লেখ্য, দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েক দিন ধরেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেয়াজের দাম। দুইদিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে খাতুনগঞ্জে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

রবিবার অভিযান চালিয়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজির অভিযোগে ১০ আড়তদারকে একলাখ টাকারও বেশি জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবারও অভিযান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযান ঠেকাতে পেঁয়াজের আড়ত বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন আড়তদাররা।