নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ ২ বছর ৩ মাস জুড়ে সিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহাবুবর রহমান। দায়িত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠায় নগরীর জানমালের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলেন তিনি। করোনাকালীন সময়েও গৃহীত মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম বাংলাদেশ পুলিশের জন্য দেশব্যাপী হয়ে উঠে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে।

অসহায়দের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, করোনা সংক্রমিতদের চিকিৎসায় হাসপাতাল স্থাপন, হাসপাতালে ডাক্তারদের যাতায়াতে বাস সার্ভিস চালু, ডোর টু ডোর শপ চালুকরণ নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই পুলিশ কমিশনার।

অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের জন্যেও ছিলেন অন্তঃপ্রাণ। মাসিক কল্যাণ সভায় উপস্থিত থেকে সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের সমস্যার কথা শোনতেন ও সমাধান করতেন। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় আধুনিকায়ন করেছেন বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের।

এসব কিছুই এখন স্মৃতি হয়ে ভাসছে নগরবাসী ও সতীর্থদের মধ্যে। শনিবার দুপুরে স্মৃতিকাতর সতীর্থ ও নগরবাসীদের বিদায় শুভেচ্ছায় সিক্ত হন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান। বিদায় উপলক্ষে নাসিরাবাদস্থ পুলিশ অফিসার্স মেসে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে সিএমপির ক্রাইম বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম। সিএমপি কমিশনারের হাতে বিদায়ী সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোস্তাক আহমদ খান। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষে সিএমপি কমিশনারকে বিদায়ী স্মারক তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ।

সিএমপি কমিশনার এ সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি সকলকে বরাবরের মতই দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা একত্রে থাকার স্মৃতিকে লালন করি।

দায়িত্বপালনকালে চট্টগ্রামের মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন মো. মাহাবুবর রহমান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য বিশাল পাওনা। সত্যিকার অর্থে, চট্টগ্রাম শহর যেমন বিশাল, চট্টগ্রামের অবয়ব যেমন বিশাল, ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বিশাল, এখানকার মানুষের মন-মানসিকতাও বিশাল।

তিনি বলেন, এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তারা অনেক বড় মাপের, তাদের মধ্যে সংকীর্ণতা আমি দেখিনি। অনেক তদবির-অনুরোধ আমি ভদ্রভাবে প্রত্যাখান করেছি। কিন্তু এ নিয়ে পরদিন কারও মধ্যে আমি দেখিনি কোন বিরাগ। অর্থ্যাৎ তাদের মন এত বিশাল, বড় যে তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারিনি। আমরা আইনের মধ্যে থেকে তাদেরকে যতটুকু সহযোগিতা দেয়ার ততটুকু দিয়েছি।

করোনাকালে সিএমপির কার্যক্রম তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা স্বীকার করি বা না করি, বাস্তবতা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের একটি দূরত্ব আছে আবহমানকাল থেকে। আমরা আসলে সুযোগ পাইনি, এই দূরত্বটি কমানোর জন্য। বিভিন্নভাবে আমরা চেষ্টা করে যাই, দূরত্ব কমে, আবার বাড়ে। আমরা করোনাকালকে বেঁচে নিয়েছিলাম, এই দূরত্ব কমানোর একটা সুযোগ হিসেবে।

তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে সিএমপিসহ সারাদেশে অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, আমিও আক্রান্ত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা বেশিরভাগ সদস্যই সুস্থ হয়েছি। নগরবাসীও অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমদিকে যে অব্যবস্থাপনা ছিল সার্বিকভাবে সরকারের নজরে আসার পর একটি সুষ্টু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে সমস্যাগুলো অনেকাংশে লাঘব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগষ্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয় শিল্পাঞ্চল পুলিশ ইউনিট ঢাকায়। আর সিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।