নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি না মানায় গণপরিবহনে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ফিরছে আগের ভাড়ায়। আগের মতো সব সিটে যাত্রী তোলারও অনুমতি দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চলবে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবাগুলোও।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, সব পরিবহন সংগঠন এবং সারাদেশে তাদের পরিবহন নেতাদের চিঠি দিয়ে আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ যাতে মানা হয় সেজন্য তারা নজর রাখবেন। কেউ নির্দেশ না মানলে সমিতি থেকে বাদ দেওয়াসহ কঠোর অবস্থানের কথা জানান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সড়ক পরিবহনমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাসগুলো সব সিটে যাত্রী তুলতে পারবে। যাত্রীরাও আগের ভাড়া দেবেন। তবে এর জন্য দু’টি শর্তও মানতে হবে বলে জানান তিনি। শর্ত দু’টি হলো— দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না এবং যাত্রীদের মুখে মাস্ক থাকতে হবে। আর বাসের চালক, হেলপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক্যের জন্যও মাস্কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিটি গণপরিবহনকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একটি ট্রিপ শেষ হলে বাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তো বটেই, জীবাণুমুক্তও করতে হবে। তা না করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে গণপরিবহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবাও চালু হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। এ ক্ষেত্রেও মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এতদিন এই সেবা বন্ধ থাকলেও গত জুন মাসে যখন থেকে গণপরিবহন চলতে শুরু করে, তখন থেকেই পরিমাণে কম হলেও মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা চালিয়ে গেছেন অনেকেই।

রাজধানীর দুয়েকটি রুটের কিছু গণপরিবহনকে অবশ্য শনিবার মন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকেই সব সিটে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। রোববার ও সোমবার বেশিরভাগ গণপরিবহনই সে পথে হাঁটেনি।

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে, আগের ভাড়া না নিলেও স্যানিটাইজার করা হচ্ছে না। যত্রতত্র যাত্রী উঠানো হচ্ছে। মাস্ক ছাড়াই অনেকে বাসে উঠে পড়ছেন।