নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুর্নীতির দায়ে ডাক বিভাগের চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসের দুই কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ডাক বিভাগের নিজস্ব অডিট বিভাগ এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের সোপর্দ করে বলে জানান কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ডাক বিভাগের ওই দুই কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তারা হলেন- সারওয়ার আলম ও নুর মোহাম্মদ। তারা তিন গ্রাহকের ৪৫ লাখ টাকা আত্নসাৎ করার প্রমাণ পেয়েছে ডাক বিভাগের অডিট বিভাগ।

ডাক বিভাগের পরিদর্শক রাজিব পাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের তিন গ্রাহকের ৪৫ লাখ টাকা অভিযুক্ত সারওয়ার আলম ও নুর মোহাম্মদ তাদের হিসাবে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্নসাৎ করেছেন। আমাদের অডিটে তা ধরা পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে আমরা তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেছি। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

ডাক বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, নুর মোহাম্মদ ও সারওয়ার আলম মিলে ওই তিন গ্রাহককে তারা হিসাবের ভুয়া কাগজপত্র দিয়েছেন। ওই হিসাবের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়নি। জমা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে এই দুই জন টাকা আদায় করতেন। আমাদের অডিটে তা ধরা পড়ার পর তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডাক বিভাগের নিজস্ব অডিটে অর্থ আত্নসাতের বিষয়টি ধরার পড়ার পর আমাদের কাছে দুই কর্মকর্তাকে তারা সোপর্দ করেছেন। তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিয়ে আসছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সূত্রমতে, ডাক বিভাগের চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিস কার্যালয়ে খোলা একাউন্টে তিন গ্রাহক মাসে মাসে টাকা জমা দিতেন। সঞ্চয় করতে তারা বেছে নিয়েছিলেন বিশ্বস্ত এই প্রতিষ্ঠানকে। ডাক বিভাগের দায়িত্বরত এই দুই কর্মকর্তার হাতের জমা দিতেন তারা কিস্তির টাকা।

জমা রশিদও নিতেন। কিন্তু ওই টাকা তাদের একাউন্টে নয়, জমা হতো দুই কর্মকর্তার পকেটে! গ্রাহককে হাতে যে রশীদ দেওয়া হতো, সেগুলোও ছিল জাল! এভাবে তারা আত্নসাৎ করেছেন তিন গ্রাহকের ৪৫ লাখ টাকা! তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। অডিটে তাদের এই গোপন অপকর্ম উঠে আসে প্রকাশ্যে। ফলে অডিট বিভাগের পদক্ষেপে তাদের ঠাঁই হলো শ্রীঘরে।