নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর দিনগত রাতের ঘটনা। রাত তখন একটা। একদল পুলিশ হঠাৎ ঘিরে ফেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কুন্ডেশ্বরী এলাকার কাঞ্চন চৌধুরীর বাড়ি। নেতৃত্বে স্বয়ং রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ।

পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর গৃহকর্তা ঘরের দরজা খুলে দিতেই থানার এসআই সাইমন তার মাথায় পিস্তল ধরেন। ওসির নির্দেশে অন্য কনস্টেবলরা ঘর তছনছ করা শুরু করে। এ সময় মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য রাখা দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে তারা।

এর পরদিন কাঞ্চন চৌধুরীকে একটি হত্যা মামলার আসামি বানিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় আরও ৫০ হাজার টাকা। এরপর ওসি কেফায়েত উল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কাঞ্চন চৌধুরী।

সম্প্রতি ওসি কেফায়েত উল্লাহকে রাউজান থানা থেকে বদলি করা হলে ভুক্তভোগী কাঞ্চন চৌধুরী এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে। মামলায় ওসি কেফায়েত উল্লাহ, এসআই সামনসহ কাঞ্চন চৌধুরীর আরো দুই প্রতিবেশী উত্তম চৌধুরী ও দিলীপ ঘোষকে আসামি করা হয় বলে জানান তিনি।

কাঞ্চন চৌধুরী জানান, দুই প্রতিবেশী ওসি কেফায়েত উল্লাহর সহেযাগী হিসেবে এলাকায় বিভিন্নজনকে হয়রানি করে আসছেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় তারা ওসি কেফায়েত উল্লাহকে দিয়ে ক্রয়সফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করান।

সোমবার বিকেলে এই মামলা দায়ের করেন তিন কন্যা সন্তানের জনক কাঞ্চন চৌধুরী। তিনি রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কুন্ডেশ্বরী এলাকার মৃত হরিপদ চৌধুরীর ছেলে বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবি এস কে কর।

মামলার এজাহারের বিবরণ মতে, ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর ঘটনার দিন রাত ১১টায় কাঞ্চন চৌধুরী চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন। এর ঘন্টাদুয়েক পর ওসি কেফায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ তার ঘরে প্রবেশ করে। কাঞ্চন চৌধুরীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাখেন এসআই সাইমন।

এ সময় ওসির নির্দেশে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তার বাসার আলমিরা, খাট ওলটপালট করে সব তছনছ করে। মেয়ের বিয়ের জন্য আলমিরায় রাখা নগদ দুই লাখ টাকা, এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, আট আনা ওজনের দুটি কানের দুল ও চার আনা ওজনের একটি আংটি নিয়ে যায়।

কাঞ্চন চৌধুরীকে থানায় নিয়ে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবার থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। পরে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত একটি ডাবল-মার্ডারের মামলায় আসামি করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তার একবছর পর ওই ডাবল মার্ডারের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কাঞ্চনের নাম বাদ যায়।

এ বিষয়ে জানতে ওসি কেফায়েত উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া দেননি তিনি। রাউজান থানা সূত্র জানায়, কেফায়েত উল্লাহকে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে সম্প্রতি বদলি করা হয়। ১২ আগস্ট তিনি নতুন ওসি হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ২০১৯ সালে পুলিশের পিপিএম পদক পান ওসি কেফায়েত উল্লাহ।