নিজস্ব প্রতিনিধি, আনোয়ারা :

চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নিজ এলাকা আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিস জোয়ারে প্রতিদিন দু‘বার ডুবছে। বর্ষার শুরু থেকে বঙ্গোপসাগরের প্রবল জোয়ারে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, উপকুলীয় বাঁধ উপচে আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ গ্রাম ও ফসলি মাঠ ডুবে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে উপজেলার মানুষ। একইভাবে জোয়ারের পানির কারনে ভূমি অফিসের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার সময় ভুমি অফিসের মধ্যে হাটু পরিমাণ পানি থৈ থৈ করছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সরকারি বেশ কিছু আসবাবপত্র। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, জোয়ারের পানিতে দৈনিক দু’বার করে ডুবছে অফিস। এতে দুপুর ১টার পর ভুমি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন দুপুর ১টায় শুরু হয় জোয়ারের পানি ওঠে। এরপর আস্তে আস্তে পানি বাড়তে থাকে। বিকাল চারটা পর্যন্ত পানি স্থির থাকে। জোয়ারের পানি নামতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ভোর রাতের দিকে জোয়ারের পানি আরেকবার ঢুকে। যা নামতে সকাল হয়ে যায়। এতে ভুমি অফিসে কাদা জমে যায়। কাঁদা পরিস্কার করতেই দুপুর গড়ায়। এতে অফিসের কার্যক্রম মারাত্নকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ভুমি অফিসে হাটু সমান পানি জমলেও বাইরে কোমর সমান পানি জমে। অফিসের বাইরে মানুষের হাঁটাচলা আর রিকশা-ট্রাক চলাচলের সময় সেই পানি ঢেউ খেলছে। জোয়ারের পানিতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। একইভাবে আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে ফসল ও পুকুরের মাছ চাষের।

ইকবাল নামে এক ব্যক্তি ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অফিসে আসলে জোয়ারের পানির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। প্রতিবছরই জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবী জানালেও অবস্থা কোনোভাবেই পরিবর্তন হয় না।

তিনি বলেন, ডুমুরিয়া রুদুরা এলাকার ইছামতি খালে স্লুইসগেট নির্মাণ হলে জোয়ারের পানির ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে মানুষ। সেই সাথে উপকুলীয় বাঁধ সংস্কার করা হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর চৌধুরী বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। তবে সদর ইউনিয়নের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অল্প কাজ সেখানে অপূর্ণ রয়েছে। দ্রুত সেখানে অফিস হস্থান্তর করা হবে। হস্থান্তর হলেই জোয়ারের পানি থেকে স্থায়ীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।