নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্ব মুসলিমদের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ করা বেয়াদবির অন্তর্ভুক্ত বলে দাবী করেছেন দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ও মুসলিম জাতির ইবাদতের মর্যাদাপূর্ন স্থান মসজিদ। বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর করে মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণè করা হয়েছে। মুসলমানরা তা কখনো মেনে নিবে না।

আল্লামা শফি বলেন, মুসলমানদের উপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার পবিত্র বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর করেছে। মসজিদ মুসলমানদের শ্রদ্ধা এবং আবেগের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থান। ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত পেয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীন ধর্ম চর্চার কথা ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর করে ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি অবিচার ও অনধিকার চর্চা করেছে মোদি সরকার। এক্ষেত্রে মোদি স্বয়ং ভারতীয় সংবিধানের বিরোধিতা করেছে।

আল্লামা শফী বলেন, মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের পবিত্র স্থানে মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। এটি আল্লাহর ঘর মসজিদের সাথে বেয়াদবির অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় উগ্রবাদী মোদি সরকারকে এ ঘটনার চরম জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ ইস্যু শুধু ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। বিশ্বের যে কোনো জায়গায় কোনো মসজিদ স্থাপিত হলে এটি সারা বিশ্বের সকল মুসলমানের হক হয়ে যায়। মসজিদের স্থানটি সব সময়ের জন্য মসজিদ বলে গণ্য হবে। সুতরাং এটির পবিত্রতা রক্ষা করা সকল মুসলমানের উপর জরুরি।

ভারতীয় উগ্রবাদী মোদি সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুসলমানদের পাঁচশত বছরের ঐতিহ্য বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর বীজ বপন করেছে। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সকল দায়ভার মোদি সরকারকে নিতে হবে।

আল্লামা শফি বলেন, আয়া সোফিয়া গ্রান্ড মসজিদের মত বাবরি মসজিদ মুসলমানরা একদিন ফিরিয়ে আনবে। মুসলমানদের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং পুনরুদ্ধারে প্রতিটি মুসলমানকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, মাঠে-ময়দানে তৎপর থাকতে হবে। সাথে সাথে আরবলীগ, ওআইসিসহ বিশ্বের সকল মুসলিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা সময়ের দাবি।