নিজস্ব প্রতিবেদক:
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্স হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ সিনহা নিহতের ঘটনায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহারের একদিন আগে নিজেকে অসুস্থ’ দাবি করে ছুটি নেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল থেকে দুপুরে ওসি প্রদীপকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর কক্সবাজারে নেওয়া হচ্ছে। তাকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সন্ধ্যার দিকে তাকে কক্সবাজার আদালতে তোলা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় বুধবার কক্সবাজারে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে ওসি প্রদীপ ও মো. লিয়াকতসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাবেক মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে মামলাটি এফআইআর হিসাবে রুজু এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব-১৫) তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর এই ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এছাড়া এ ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যসহ ১৭ জনকে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।