নিজস্ব প্রতিবেদক:
কোরবানির ঈদের ৪ দিন আগেও জমে উঠেনি চট্টগ্রামে গরু বেচাকেনা। নগরীর সবকটি পশুরহাটে প্রচুর গরু আনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনায় চট্টগ্রামে মধ্যবিত্ত শ্রেণির কোরবানি দাতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় পশুরহাটের এই হাল। উচ্চবিত্তরা গরু কিনতে আসলেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় তারাও গরুর মূল্য কমিয়ে দরদাম করছেন।

তবে গরুর বাজারের চেয়েও কিছুটা চাঙাভাব ছাগলের বাজারে। বেচাকেনাও হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে ব্যাপারীরা মানছেন, চট্টগ্রামের মধ্যবিত্তরা এবার ছাগলের দিকেই ঝুঁকছেন।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় দেওয়ানহাট ছাগলের বাজার। সেখানে দেখা যায় প্রচুর ছাগল। নগরীর গরুর বাজার গুলোতেও প্রচুর ছাগল আনা হয়েছে। আর গরুর তুলনায় ছাগল বেচাকেনা জমে উঠেছে। পাড়ায়-মহল্লায়ও অনেকের ছাগল ক্রয়ের বিষয়টি লক্ষ্যণীয়।

দেওয়ানহাট ছাগলের বাজারে ছাগল ক্রেতা আজাদুর রহমান জানান, প্রতিবছর গরু দিয়ে কোরবানি করেছি। এবার করোনা পরিস্থিতিতে আয় হারিয়ে ছাগল দিয়ে কোরবানি করছি। তাতেও বেশ চাপ সইতে হচ্ছে আমার।

হাটের ছাগল বেপারি মোহাম্মদ জমির উদ্দিন জানান, অন্যবছরের তুলনায় এবার ভালো সাড়া পাচ্ছি। কারণ করোনায় আর্থিক ধকল সামলে নিতে মধ্যবিত্তের অনেকে এবার ছাগল কোরবানি দেবেন। তারা অন্যান্য বছর গরু কোরবানি দিতেন। তাছাড়া কসাই ও করোনায় বেশি মানুষের স¤পৃক্ততা ঠেকাতে অনেকে ছাগলের দিকে ঝুঁকেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম গরু-ছাগলের বাজার বিবিরহাটের ইজারাদার আরিফুল ইসলামও বলছেন একই কথা। তিনি বলেন, বিবিরহাটে প্রতিবছরের মতো অসংখ্য গরু এসেছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে। কিন্তু সে হারে বেচাকেনা কম। ক্রেতা তেমন নেই।

অথচ প্রতিবছর এই সময়ে গরু বেচাকেনার হার কয়েকগুণ বেশি ছিল। অন্যদিকে ছাগল বিক্রী যে কোন বছরের তুলনায় বেড়েছে। এখন পর্যন্ত গরুর চেয়ে দ্বিগুণ বেশি ছাগল বিক্রীর ইজারা রশিদ কেটেছি আমরা।

তিনি বলেন, রবিবার হাটে ২৫টি গরুর বিপরীতে ৬০টি ছাগলের রশিদ কেটেছি। ছাগল বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ার থেকে বুঝা যায়, নগরীর মধ্যবিত্ত শ্রেণির কোরবানি দাতারা টাকা হারিয়ে এবার ছাগলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, গরু বিক্রীর হার কমায় শুধু বিক্রেতা নয় আমরাও টেনশেনে আছি। কারন গরুর মূল্য বেশি। ইজারামূল্যও ৫ টাকা হারে। অন্যদিকে ছাগলের মূল্য কম, ইজারামূল্য ৩ টাকা হারে। সে হিসেবে ছাগল বেশি বিক্রী হলেও গরু বিক্রী না হওয়ায় ইজারার টাকা এখনো তলানিতে পড়ে আছে।

অন্যদিকে গরু বিক্রী কমে যাওয়ায় ব্যাপারীরাও রয়েছে টেনশেনে। ক্রেতা কম থাকায় উচ্চবিত্ত শ্রেণির কোরবানি দাতারা গরুর দাম বলছে অনেক কম। তবে বিক্রেতারা আশা করছেন, আজ-কালের মধ্যে গরুর বাজার জমে উঠবে। করোনা পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি গরু বিক্রির দিকে মনোযোগী তারা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে কোরাবানির ৭টি পশুরহাট বসেছে। এরমধ্যে স্থায়ী পশুরহাট হচ্ছে সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় বাজার। অস্থায়ী চারটি বাজার হচ্ছে কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা, বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের মাঠ ও কর্ণফুলী পশুরহাট। যেখানে করোনার সংক্রমণ রোধে তিন ফুট দূরত্বে থাকার স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। বয়স্কদের বাজারে না যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অনেক প্রবীণকে বাজারে দেখা গেছে।