নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত থেকে পাঠানো রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ স¤পর্কিত নথি ২৩ জুলাই রাতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মামলা রেকর্ড করা হয়।

ওসি বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠে চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালের ১৭ মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তানভীর বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেহ মো. নোমানের আদালতে দন্ডবিধির ১২৩ (ক), ১২৪ (ক), ১৭৭, ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় মামলার আরজি জমা দেয়।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ যুক্ত থাকায় আদালত মামলার আরজি গ্রহণ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি নিয়ে এই মামলার এজাহার গ্রহণের জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়।

গত সপ্তাহে মামলা রেকর্ডের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাই। এরপর সেটি নিয়মিত মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন তদন্ত শেষে আমরা সরাসরি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল জার্নাল অব হিউম্যান সোশ্যাল সাইয়েন্স: সোসিওলজি এন্ড কালচার নামে এক জার্নালে রিলিজিয়াস পলিটিক্স অ্যান্ড কমিউনাল হারমনি ইন বাংলাদেশ: এ রিসেন্ট ইমপাস শিরোনামে আনোয়ার হোসেনের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে দৈনিক ভোরের কাগজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দায়ের করা মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, প্রকাশিত প্রবন্ধে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও একবারও তিনি জাতির জনক কিংবা বঙ্গবন্ধু শব্দটি ব্যবহার করেননি। এতে জাতির জনকের প্রতি আনোয়ার হোসেনের তাচ্ছিল্য প্রকাশ পেয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হিজাব পরিধান, হাটহাজারীর নন্দীরহাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ও উপাসনালয়ে হামলা, রামু বৌদ্ধবিহারে সহিংসতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টার করার অভিযোগও আনা হয় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যা মামলার আসামি হয়ে জেল খেটে আলোচনায় আসেন চবির সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আনোয়ার হোসেন এবং কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি আদালতে আত্নসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জেল থেকে বের হয়ে আনোয়ার আবারও শিক্ষকতায় ফেরেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বাসা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।