নিজস্ব প্রতিবেদক : 
মাদক, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ ও পুলিশ। ২৫ জুলাই শনিবার ভোর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ৫ অভিযানে উদ্ধার করেছে কোটি টাকার ইয়াবা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন কুখ্যাত এক জলদস্যু। গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮ জন।

চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ ও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২৫ জুলাই শনিবার ভোরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের সরল ব্রীজ এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কুখ্যাত জলদস্যু শের আলী (৩৫)।

এ সময় একাধিক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। শের আলী ইউনিয়নের হাজিরখীল এলাকার মৃত হোসেন আহমদের পুত্র। দুর্ধর্ষ নুর মোহাম্মদ বাহিনীর অন্যতম সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাগরে ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ ও অবৈধ অস্ত্রের ১৬টি মামলা রয়েছে বলে জানান র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টেরে পেয়ে শের আলী ও সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে শের আলীর মরদেহসহ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, এর আগে ২৪ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট-কালুরঘাটমুখী ফ্লাইওভারে পশুবাহী যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি করার সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭।

গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বজলুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩২) ও বাঁশখালী থানার পাইরং গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আজগর হোসাইন (৩৭)। তাদের চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই জনকে আটক করে র‌্যাব। এরা হলেন মো. সুফিয়ান (২৬) ও রিদোয়ান আবেদীন (৩০)। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ওয়ান শুটারগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. মুশফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং ও কোতোয়ালী এলাকায় পৃথক অভিযানে এক রোহিঙ্গা নাগরিকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-কক্সবাজারের কুতুপালং নতুন শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মিয়ানমার নাগরিক মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. আয়াছ (২০) ও টেকনাফের কালুখালী হোয়াক্যাং এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৪)।

এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইয়াবা পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়িও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার তালুকদার পাড়ার হারাধন চক্রবর্তীর পুত্র জনি চক্রবর্তী (৩১) ও কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার কাপ্তান বাজার এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার পুত্র মো. রাসেল (৩৬)। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের লোহারদীঘি এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। ভোর রাতের দিকে চট্টগ্রাম শহরমুখী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় জনি চক্রবর্তীর কাছে ৫০ হাজার ও তার গাড়ি চালক রাসেলের কাছ থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। অভিযান অব্যাহত থাকবে।