এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা :
করোনাকালেও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্পটে স্পটে চলছে রমরমা জুঁয়ার আসর। যেখানে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সেখানে জুঁয়াড়িদের লকডাউন করার কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জুঁয়াড়িরা জমিয়ে তুলছে জুয়ার আসর। যেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক হাইলধর ইউনিয়নের স্থানীয় এক যুবক জানায়, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠতি বয়সের বেশ কিছু যুবক এবং স্থানীয় কিছু জুঁয়াড়ি মিলে এসব আসর জমিয়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে জুঁয়ার আসর গুলো চলে আসলেও করোনাকালে উপজেলায় দ্বিগুন হারে বেড়েছে জুঁয়ার আসর।

স্থানীয়রা জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন যখন ব্যস্ত তখন প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জুঁয়াড়িরা জুঁয়ার আসরগুলো বেশ সরগরম করে তুলছে। রাস্তা ঘাটে এমনকি হাট-বাজারেও চলছে প্রকাশ্য জুঁয়া। করোনাকালেও যেন আনোয়ারা জুয়ার হটস্পটে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ মাঝে মাঝে জুয়াঁর আসরগুলোতে হানা দিলে জায়গা পরিবর্তন করে আবারো পুরোদমে জুঁয়ার আসরগুলো বসাচ্ছে। অনেক জায়গায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কারণে জুঁয়াড়িরা সুবিধা করতে না পারলেও আবার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জুঁয়াড়িরা প্রভাবশালী হওয়ায় হরদম চলছে জুঁয়ার আসরগুলো।

উপজেলার সব চেয়ে বড় জুঁয়ার আসর হচ্ছে ২নং বারশত ইউনিয়নের পারকি গ্রামের শরীফ মোল্লা দিঘির পূর্ব পাড়ে। এখানে সারা রাত ধরে চলে জুঁয়ার আসর। এছাড়াও উপজেলার আরো বেশ কিছু জায়গায় চলে জুঁয়ার আসর। বিশেষ করে হাইলধর ইউনিয়নের ইছাখালী সাঙ্গু নদীর তীরে, পীরখাইন, বারখাইন, বরুমছড়া এলাকাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায়।

ইছাখালী সাঙ্গু নদীর তীর ও চৌমুহনী এলাকায় চলে প্রকাশ্য লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। এসব জুঁয়ার আসর বন্ধে ভূমিকা কি জানতে চাইলে হাইলধর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য জামাল উদ্দীন বলেন, আসলে এটি একটি লজ্জাজনক বিষয়। আমি বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে এই জুঁয়ার আসরগুলো বন্ধ করতে চেষ্টা করেছি। স্থানীয় বেশ কয়েকজন মানুষ এই জুঁয়ার আসরগুলোতে বসে নেতৃত্বে দেয়। যার ফলে এই জুঁয়ার আসরগুলো বার বার বন্ধ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, প্রশাসনে একটি অংশ করোনার দায়িত্বে থাকায় কিছু দুষ্টু চরিত্রের লোক সেই সুযোগটা ব্যবহার করছে। তারপরও জুয়া বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশকে দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। জুয়ার আসর বসার তথ্য এলেই পুলিশ সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করছে।