বিশেষ সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা বাঁশবাড়িয়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভুমি। কিন্তু এই সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে অসামাজিক ও বেআইনি নানা অপকর্ম। যারমধ্যে এখন জমজমাট পতিতা ব্যবসা।

শুধু তাই নয়, তুমুল চাহিদা থাকা মাদকদ্রব্য ব্যবসাও চলছে বেপরোয়াভাবে। এরমধ্যে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা, হুইস্কিসহ বিদেশি নানা রকম মদও রয়েছে। রয়েছে পাহাড়ে তৈরী বাংলা মদও। আড়ালে আবডালে নয়, একেবারে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে চলছে এসব।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভুমিদস্যু, মাদক ও পতিতার সর্দার হিসেবে খ্যাত এম এ কাসেম ওরফে রাজা কাসেম দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে এসব নানা অপকর্ম করে আসছে। বাঁশবাড়িয়া সমূদ্র উপকুলীয় সরকারি বাঁধ ও আশপাশের জমি দখল করে দোকানের নামে তিনি গাছ ও বাঁশের ঘর তৈরী করে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

এসব দোকানের সামনে লোক দেখানো কিছু পণ্য বা চা বিক্রীর সরঞ্জাম নিয়ে তার অনুসারী কতিপয় দৃষ্কৃতিকারী বসে থাকলেও দোকানের পেছনে চলে পতিতা ব্যবসা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই ব্যবসা। পতিতা ব্যবসা ঘিরে চলে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা, বিদেশি ও দেশীয় তৈরী মদের ব্যবসা।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে প্রতিমাসে লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চালায় এই পতিতা ও মাদক ব্যবসা। ফলে পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের কেউ তার এই অপকর্মের দিকে ভুলেও চোখ তুলে থাকায় না। এতে নির্বিঘ্নে চলছে এই পতিতা ও মাদক ব্যবসা।

এ ব্যাপারে জানতে সীতাকুন্ড থানার অফিসার ইনচার্জের ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সীতাকুন্ড থানার একজন এসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র উপকুলে পর্যটনের নামে পতিতা ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার কথা স্বীকার করে বলেন, এসব অপকর্মের মূল হোতা এম এ কাসেম ওরফে রাজা কাসেমের সাথে থানার ওসি সাহেবের যোগাযোগ রয়েছে। আগের ওসি দেলোয়ার হোসেনকে তিনি প্রতিমাসে এক লাখ টাকা করে দিয়ে যেতেন। যার ফলে এসব অপকর্মের দিকে চোখ না দেয়ার অর্ডার ছিল থানার প্রত্যেক অফিসারের উপর।

তিনি জানান, গত বছর পর্যটনের পতিতা নিয়ে সমূদ্রে গোসল করার সময় ঢাকা থেকে আগত পর্যটকদের একটি গাড়ীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ৩ শিক্ষার্থী মারা যান। এর আগেও দুজন মারা যান। অথচ এ এলাকায় সরকার অনুমোদিত কোন পর্যটন কেন্দ্র ছিল না, এখনো নেই। তবে এ এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একটি ঘাট রয়েছে। যেটি ইজারা নিয়ে তিনি পর্যটনের নামে পতিতা ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে প্রতিমাসে কোটি টাকা আয় করেন।

আর মৃত্যুজনিত এসব ঘটনায় গত বছর ঘাটের ইজারাও বাতিল করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু দেখা যায়, তিনি আবারও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলতি অর্থবছরে ঘাট ইজারা নিয়ে নেন। অবশ্যই এ জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সীতাকুন্ড উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা ও ইউএনও। তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ঘাট ইজারার প্রতিবেদন তার পক্ষে দেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত দু‘দশক আগে রাজা কাসেম বাঁশবাড়িয়া সমূদ্র উপকুলীয় রক্ষা বাঁধের পাউবো ও বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীণ বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে। সেখানে সে বাঁধ ঘেষে নৌকা তৈরীর একটি ইয়ার্ড গড়ে তোলে। যেখানে ১৫-২০ জন লোক কাজ করত। তখন এলাকাটি প্রায় জনাকীর্ণ ছিল।

এ সুবাধে রাজা কাসেম চট্টগ্রাম শহর থেকে পতিতা নিয়ে যেত সেখানে। পরবর্তিতে ইয়ার্ডে কাজ করা শ্রমিকদেরও খদ্দের বানিয়ে নেয়। ফলে শ্রমিকরদের একদিকে বেতন দিলেও পতিতা ব্যবসার মাধ্যমে তা আবার কেড়ে নিত। একপর্যায়ে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বিপে যাতায়াতকারীরাও পতিতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর ওই ব্যবসাকে পোক্ত করার জন্য নিজের নামে ঘাট ইজারা নেয়।

স্থানীয়রা আরো জানান, ঘাট ইজারার পর থেকে শুরু হয় তার পর্যটনের ফাঁদ। সেখানে বড় বড় ছাতা দিয়ে সে বসার ব্যবস্থা করে। খাবারের নামে চা দোকান, ভাতের দোকান, পান-সিগারেটের দোকান গড়ে তোলে। পরবতির্েেত ডিজিটাল প্রচারণার সুযোগ নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

পর্যটকরা সেখানে যেতে যেতে মাদক ও পতিতা পেয়ে আকৃষ্ট হয়ে উঠে। ২০১৪ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে পর্যটক বাড়তে থাকে তাতে পতিতা ও মাদক ব্যবসা ফুলে ফেঁেপ উঠে। বর্তমানে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার পর্যটক আসছে সেখানে। যাদেও অধিকাংশই মাদক ও ইয়াবার টানে আসছে।

সূত্র জানায়, এসব কাজ করার জন্য রাজা কাসেম অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। যারা পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি মাথাপিছু ১০০ টাকা। সমুদ্রে রাখা স্পিডবোটে ঘুড়ে আসার জন্য মাথাপিছু ৩০০ টাকা করে নেয়। আর এক হাজার টাকা দিলে মেলে পতিতা। নির্দিষ্ট অঙ্কে মেলে ইয়াবাসহ সবধরণের মাদক। এভাবে সে প্রতিমাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে গত কয়েক বছরে সে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে এম এ কাসেম ওরফে রাজা কাসেম মুঠোফোনে বলেন, বাঁশবাড়িয়ায় কোন পর্যটন নেই। এখানে কোন পতিতা বা মাদক ব্যবসা চলে না। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে জনপ্রিয় টিভি ইটিভির একটি প্রতিবেদনে তিনি যা বলেছেন তাতে তিনি যে মিথ্যা কথা বলেছেন তার প্রমাণ রয়েছে। ভিডিওটি দেখুন। সেই সাথে এই প্রতিবেদনের যুক্ত ছবিগুলো দেখুন। কারন ছবিও কথা বলে।

উল্লেখ্য, রাজা কাসেমের নাম আগে ছিল মো. আবুল কাসেম। রাজা নামটা তার নিজের দেওয়া। প্রিয় পাঠক আবুল কাসেম থেকে রাজা কাসেম হওয়ার গল্প পরবর্তি প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। তথ্যটি জানতে চোখ রাখুন শুধুমাত্র শুভ চট্টগ্রাম নিউজ পোর্টালে।