নিজস্ব প্রতিবেদক:
কখনো ভারী, কখনো মাঝারি বৃষ্টিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। বুধবার সকালে সড়ক ছাপিয়ে পানি ঢুকে গেছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন ভবনে। কোথাও কোথাও কাঁদামাটিতে ভরে গেছে সড়ক।

২০ জুলাই সোমবার মধ্যরাত থেকেই চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মঙ্গলবার বেলা গড়াতেই থেমে থেমে শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে জোয়ারের পানি মিশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারী করেছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। ফলে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ জন্য নগরীতে খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর ২২টি পাহাড়ে লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদ থেকেও বারবার বলা হচ্ছে। এ জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে লোকজনকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টির সাথে জোয়ারের পানি মিশে মঙ্গলবার দুপুরের পর নগরীর প্রবর্তক মোড়, বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, হালিশহর, সরাইপাড়া ডিসি রোড, কাপাসগোলা, হালিশহর, চাক্তাই, আছাদগঞ্জ খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে প্রবর্তক মোড়ে সবচেয়ে বেশি হাঁটু থেকে কোমড় পরিমাণ পানি দেখা গেছে। যেখানে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে যানবাহন ও লোকজন চলাচল করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলেন, প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। সেখানে আমাদের কালভার্ট ও ড্রেন সংস্কারের কাজ চলমান আছে। সেজন্য পানিপ্রবাহে সময় লেগেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি স্পটে পানি জমে থাকার খবর পেয়ে আমাদের কুইক রেসপন্স টিম গিয়েছিল। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতিকে জলাবদ্ধতা বলা যাবে না। শুধুমাত্র পানির চাপ ছিল। পানি ড্রেন হয়ে খালে যাওয়া পর্যন্ত সময়টুকু লাগছে।

এদিকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। ভারী বর্ষণের সাথে প্রবল জোয়ারের পানি মিশে সোমবার থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদিন দু‘বার করে ডুবছে হাসপাতালটি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন নাজিম উদ্দিন বলেন, বুধবার দুপুরেও পানি প্রবেশের পর হাসপাতালের মেঝেতে ব্যবহৃত গ্লাভস, মাস্ক, পলিথিন, গজ ব্যান্ডেজসহ নানা কিছু ভাসছিল। নিচে পানি, উপরে বিছানায় জড়োসড়ো হয়েছিলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। গত সোমবার থেকে প্রতিদিন দুপুর ও ভোররাতে দু‘বার ডুবছে হাসপাতালটি। প্রতিবরাই প্রায় হাটু থেকে কোমড় পর্যন্ত প্রায় তিনঘণ্টা ডুবে থাকে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালের নিচতলার প্রশাসনিক ব্লক, অভ্যর্থনা কক্ষ এবং শিশু ওয়ার্ডে পানি উঠছে আর নামছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হাসপাতালে পানি ওঠে এবং ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে কোভিড রোগীদের সমস্যা হয়নি। তাদের চিকিৎসা চলছে নতুন ভবনে। পুরনো ভবনে রোগীদের সমস্যা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। সেই সাথে পাহাড় ধসের সতর্কতাও জারী রয়েছে।