নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত কালুরঘাট সেতু সংস্কারে লুটপাটের অভিযোগে আইনি নোটিশ দিয়েছে সেলিম চৌধুরী নামে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের এক আইনজীবী। বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি নিজেই।

তিনি জানান, কালুরঘাট সেতু সংস্কারে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটপাট হচ্ছে। তাই রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক বরাবরে মঙ্গলবার বিকেলে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কালুরঘাট সেতু। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ সেতু মেরামতের নামে ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবি কনস্ট্রাকশন কাজটি পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতুটি মেরামতের জন্য ১৩-২৩ জুলাই ১০দিন যানবাহন চলাচলে বন্ধ রাখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এরমধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় যে ১৩-১৯ জুলাই সেতুর কোনো কাজই হয়নি, বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে খাওয়ার জন্য সেতু বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ২০ জুলাই থেকে লোক দেখানো কিছু কাজ করেছে। স্থানীয়দের জনসাধারণের অভিযোগ বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে ৫-৭ লাখ টাকা খরচ হবে। বাকি টাকা রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে আত্নসাৎ করার প্রচেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সবুক্তগীন বলেন, কাজ এখনও চলমান রয়েছে, এতে কোনরকম প্রতারণা বা অনিয়ম করা কীভাবে সম্ভব। তবুও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবি কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে নির্মিত কালুরঘাট রেলসেতুটি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। গত ১০ বছর আগে সেতুটি ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এ অবস্থায় ঝুঁকি ও ভোগান্তি মাথায় নিয়ে দিনে লক্ষাধিক মানুষ এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, মোহরা, বোয়ালখালী, পটিয়া, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় লোকজন সেতুটির জায়গায় নতুন করে একটি দ্বিমুখী সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাতে সুরাহা মিলছে না। প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সেতুর বিষয়ে সুরাহা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগেই তিনি মারা যান।