নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রিপুরা ও আসামের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের ট্রানজিট পণ্যের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌছেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোররাতে ভারতীয় জাহাজ এমভি সেজুঁতি ২২১ কনটেইনার পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জাহাজ বন্দর সীমানায় আসার পর বন্দর-কাস্টমসের যে মাশুল প্রাপ্য সেটা ক্লিয়ার করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে জাহাজটিকে বন্দরের এনসিটি-১ জেটিতে আনা হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ জাহাজটি থেকে কনটেইনার খালাস কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ট্রানশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় জাহাজটি কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের গেট নম্বর ৭ থেকে ১০৮ কনটেইনার রড ও ডালের চালান নিয়ে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এরপর জাহাজটি হলদিয়া বন্দরে যায়। সেখান থেকে পণ্যভর্তি আরো ১১৩ কনটেইনার নেয়। গত সোমবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছার কথা থাকলেও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে মঙ্গলবার ভোরে এসে পৌছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো শিপিং লাইন।

শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, জাহাজটিতে ২১৭ কনটেইনার পণ্য রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। ৪ কনটেইনার পণ্যের মধ্যে দুই টিইইউস টিএমটি ই¯পাত পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়ার এস এম করপোরেশনের। দুই টিইইউস ভোগ্যপণ্য ডাল আসামের করিমগঞ্জে জেইন প্রতিষ্ঠানের।

হাবিবুর রহমান বলেন, জাহাজটি পৌছার পর জেটিতে বার্থিং দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। পাশাপাশি কনটেইনার খালাসের লক্ষ্যে কাস্টমসসহ বিভিন্ন মাশুল পরিশোধ করা হয়। এরপর দুপুর ২টা নাগাদ জাহাজটি বন্দরের এনসিটি-১ জেটিতে আনা হয়। সন্ধ্যা নাগাদ জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, খালাসের পর চারটি লরিতে সড়কপথে কনটেইনারগুলো আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা ও আসাম পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ চালানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য তাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পরিবহনের প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করলো।

চট্টগ্রাম বন্দরের সূত্রমতে, ২০১৮ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তির আর্টিক্যাল-৪ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে ধরণের সুবিধা নিয়ে থাকে ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায়োরিটির ভিত্তিতে ¯েপস প্রদান করবে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের মাশুল আদায় করবে। এই সাতটি হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ৩০ টাকা, নিরাপত্তা মাশুল ১০০ টাকা, এসকর্ট মাশুল ৫০ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল ১০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা এবং বিধি অনুযায়ী ইলেকট্রিক সিল ও লক মাশুল প্রযোজ্য হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, স¤পাদিত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় প্রতিটি কনটেইনারের বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃক সরকারি মাশুল আদায় করা হবে। বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহারের জন্যও সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্ধারিত মাশুল আদায় করবে। এছাড়া দেশের শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কার্গো পরিবহন এজেন্টের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকেই চাঙা করবে।