নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামালপুর-জামালগঞ্জ-ময়মনসিংহ থেকে কোরবানির গরু পরিবহণের জন্য চট্টগ্রামে খাদ্য পরিবহণের ৩০ কোচের দুটি রেল চার দিন ধরে অপেক্ষা করছে। এতে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রেল। রেল দুটি পতেঙ্গা সাইলো থেকে তেজগাঁও খাদ্য গুদামে খাদ্য (গম) পরিবহন করে। এতে একটি রেলে ৫-৬ লাখ টাকা আয় হয়।

গরু পরিবহন করা হলেও প্রতি রেলে আয় হতো ২-৩ লাখ টাকা। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত কোরবানির গরু পরিবহণের জন্য পড়ে থাকায় কোন আয় হচ্ছে না। সোমবার সকালে এ তথ্য জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, রেল ভবনের নির্দেশে কোরবানির গরু পরিবহনের জন্য চট্টগ্রামে ৩০ কোচের দুটি ট্রেন চার দিন ধরে অপেক্ষা করছে। কিন্তু কবে নাগাদ গরু পরিবহন করা হবে তা এখনো রেল ভবন থেকে জানানো হয়নি। অথচ পতেঙ্গা সাইলো থেকে ৭ লাখ টন গম পরিবহনের ডিমান্ড রয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (ট্রেড) কামাল হোসেন বলেন, জামালপুর-জামালগঞ্জ-ময়মনসিংহ থেকে গরু পরিবহনের জন্য ট্রেন দুটি রাখতে বলা হয়েছিল রেল ভবন থেকে। আমরা দুটি ট্রেন রেখেছি। তবে কবে থেকে গরু পরিবহন করা হবে তা রেল ভবন থেকে জানানো হয়নি। এখন শুনছি ওইদিকে পানি উঠেছে।

তিনি জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দূর পাল্লার ভারি যানবাহন চলাচলে কিছুটা সংকট দেখা দেয়ায় রেল মন্ত্রী কম খরচে সারাদেশে কোরবানির গরু পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ময়মনসিংহ-রংপুর-জামালগঞ্জ থেকে ইতোমধ্যে সহজেই ঢাকায় গরু পরিবহন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা একেবারে কম মূল্যে গরু পরিবহনের সুযোগ পেয়েছেন রেলমন্ত্রীর এই উদ্যোগের কারণে।

এদিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী মহোদয়ের এই উদ্যোগ ঢাকায় সফল হলেও চট্টগ্রামের বেলায় এটি তেমন সুফল বয়ে আনেনি। এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামে এক গাড়ি গরুও আসেনি। অথচ তিনদিন ধরে ২টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন একটি গাড়িতে খাদ্য পরিবহন করলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে আয় করা সম্ভব হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রেলের যে কোচে খাদ্য পরিবহন করা হয়-সেই কোচ গরু পরিবহনের জন্য উপযোগী নয়। কারণে খাদ্য পরিবহনের কোচগুলোর দরোজা-জানালা বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় গরু পরিবহন করা হলে গরমে গরু মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও রেল ভবনের নির্দেশে দুটি রেল চট্টগ্রামে পড়ে আছে। ফলে চার দিনে বিপুল আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে রেল।