এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা :
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তার তালিকায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৮নং চাতরী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্র সন্তোষ দত্তের নাম থাকলেও মোবাইল নাম্বার রয়েছে ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সঞ্জিত দত্ত সাগরের।

এছাড়া এ নাম্বারে নিত্ত দত্ত নামের আরো একজনের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহ¯পতিবার সকালে এদের টাকা না পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেন আনোয়ারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন,সন্তোষ দত্ত নামে এক লোক টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। খোঁজ নিয়ে দেখি তার টাকা একটি নাম্বারে চলে গেছে। ওই নাম্বারে যোগাযোগ করলে ওই ওয়ার্ড আওযমী লীগের সভাপতি সঞ্জিত দত্ত সাগর টাকা ফিরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এ রকম আরো গরমিলের তথ্য রয়েছে তালিকায়। ফলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নাম ও নাম্বার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ শাহ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি সহায়তা ২৫০০ টাকার তালিকাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি মেম্বার তৈরি করে আমাদের দিয়েছে। আমরাও সে তালিকাটা পাঠিয়ে দিই। সেখানে কার নামের সঙ্গে কার নম্বর দিয়েছে সেটা আমরা ঠিক জানি না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সঞ্জিত দত্ত সাগর বলেন, বর্তমান ইউপি সদস্য রঘুনাথ সরকার চাউল দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে আইডি কার্ড ও নম্বর নিয়ে যায়। উপজেলা থেকে ফোন দিয়ে জিঞ্জেস করে মোবাইলে টাকা আসছিল কিনা। মোবাইলে টাকা আসলে পরে আমি যার নামে টাকা আসছে তাকে টাকাগুলো দিয়ে দিই।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীর নামেও একটি কার্ড হয়েছে। কিন্তু আইডি কার্ডে ভুল থাকায় ওই টাকা এখনও পাইনি। বর্তমান মেম্বারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের বিভিন্ন অপকর্মের সাক্ষী আমি, তাই আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে।

সন্তোষ দত্ত বলেন, সবাই টাকা পেয়েছে, আমি পাইনি। টাকা না পাওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারকে বললে আমার টাকা অন্য নম্বরে চলে যাওয়ার কথা বলেন। ওই নম্বরে ফোন দিলে দেখা যায় নম্বরটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাগর মেম্বারের। তখন উনাকে ডেকে নিয়ে এসে আমার টাকা আমি ফেরত নিয়ে নিই।

এ ব্যাপারে রঘুনাথ সরকার বলেন, আমি হতদরিদ্র ৩০ জনের নাম্বারসহ তালিকা দিয়েছি। পরে দেখি অনেকে টাকা পায়নি। তখন আমি তাদেরকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলি। তার বিরুদ্ধে সাগর মেম্বারের আনা অভিযোগ ঠিক নই। তিনি মনগড়া কথা বলছেন। আমি ইউপি সদস্য আমি কেন তার আইডি কার্ড নেব।

রঘুনাথ সরকার আরো বলেন, আমি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। সাগর মেম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সরকারি দলের প্রভাব কাটিয়ে এই কর্মকান্ড ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি।