নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) লিমিটেডের চট্টগ্রামের কারখানায় মিলেছে বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি তাজা গ্রেনেড। খবর পেয়ে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করে বুধবার রাতে নিষ্ক্রিয় করে।

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেডের কারখানায় গ্রেনেডটির সন্ধান মেলে বুধবার বিকেলে। এসময় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীসহ সবার মধ্যে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বিকেলে কারখানা থেকে থানায় বোমা পাওয়া যাওয়ার খবর আসে। সেখানে গিয়ে দেখি, লোহার রড তৈরির কাঁচামালের মধ্যে একটি গ্রেনেডসদৃশ বস্তু বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে। আমি তখন সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউরিটের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটকে খবর দিই।’

সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘আমাদের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের ইনচার্জ রাজেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি টিম গিয়ে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে। এটি একটি তাজা গ্রেনেড ছিল। এ ধরণের গ্রেনেড বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে কারখানার দক্ষিণে একটি খোলা মাঠে গ্রেনেডটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এরকম আরো কোনো গ্রেনেড কারখানার ভেতরে আছে কি না, সেটা আমরা তল্লাশি কওে দেখেছি। কিন্তু আর কোথাও সে রকম কোন গ্রেনেড পাওয়া যায়নি।’

কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, গত ২১ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে জাপান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১০ হাজার মেট্রিকটন স্টিল স্ক্র্যাপ কারখানায় ঢোকে। এই স্ক্র্যাপের ভেতরে গ্রেনেডটি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কারখানার পক্ষ থেকে স্ক্র্যাপের ভেতরে করে গ্রেনেডটি আসার কথা বলা হলেও আমরা নিশ্চিত নই। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের গেইট দিয়ে বের হওয়ার সময় স্ক্যানিং মেশিনে বিষয়টি অবশ্যই শনাক্ত হত। বিএসআরএম কারখানার গেইটেও স্ক্যানার আছে। সেখানেও শনাক্ত হয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

বিএসআরএম কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক ওমর সোয়েব বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের মধ্যে ছোট্ট একটা বিস্ফোরক স্ক্যানারে ধরা নাও পড়তে পারে। তবে এখন থেকে স্ক্যানিংয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ এটা কারখানার জন্য কোনো স্বাভাবিক বিষয় না। তাজা গ্রেনেড বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতো। অনেক বড় বিপদ থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি।’