এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা প্রতিনিধি :

জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স বেশি থাকায় জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করতে পারেনি দুর্জয় দাশ। তাই রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এই ছাত্র। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে জরুরি সভায় বসে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র দেবনাথ, শ্রেণি শিক্ষক ও অফিস সহকারিকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সেই সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঘুপতি সেনের নির্দেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য রফিক উল্লাহকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র জানায়, দুর্জয় দাশ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার গিয়েও জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন করতে না পেরে জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করতে না পারেনি। ফলে গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার জন্মসনদে ১৩ দিন বেশি থাকায় কারণে জেএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করেনি বিদ্যালয়। এ ঘটনায় শুক্রবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জরুরি সভায় বসে। এতে গঠিত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। আগামী সাত দিবসের মধ্যে তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঘুপতি সেন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ দেবনাথ বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এদিকে সভা শেষে সড়কে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত দুর্জয় দাশের মা বাবা ও দাদি। এসময় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় প্রধান শিক্ষক শুধাংশু চন্দ্র দেবনাথের পক্ষে কতিপয় লোকজন এসে দুর্জয় দাশের মা-বাবা ও বিক্ষোভকারীদের বেদড়ক পিটুনি দেয়। এতে কয়েকজন আহত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।