নিজস্ব প্রতিবেদক :
করতেন চাষাবাদ। থাকতেন জরাজীর্ণ ঘরে। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ জমি কিনে কোটি টাকায় বানালেন স্বপ্ননীড় নামে রাজপ্রাসাদ। যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেলেন মীরসরাই পৌর কাউন্সিলর শাখেরুল ইসলাম রাজু।

ফুলে ফেঁপে উঠার মতো কোন ব্যবসাও নেই তার। রাজু এন্টারপ্রাইজ নামে নিজের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও তেমন কোন কাজ নেই। অথচ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে পৌর কাউন্সিলর হওয়ার মাত্র কয়েকবছরে আমবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণ করেন বিলাসবহুল বাড়ি।

চলাফেরাও করেন অর্ধকোটি টাকা মূল্যের এলিয়েন প্রাইভেট কারে (নম্বর-গ-৯৮১৫)। আছে মোটা অঙ্কের ব্যাংক ব্যালেন্স। গড়িয়েছেন প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। যার হিসেব পৌর কাউন্সিলর নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামায়ও নেই। থাকার কথাও নই। কারন ওই সময় এত সম্পত্তির মালিক তিনি ছিলেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর কাউন্সিলর শাখেরুল ইসলাম রাজুর বৈধ আয়ের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পথ নেই। তবে অবৈধ আয়ের পথ অনেক। দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার, সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচার, অস্ত্র পাচার, বালু পাচার, পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে তিনি জড়িত। তবে তিনি অদৃশ্য।

এসব কাজে রয়েছে তার বিশাল কর্মীবাহিনী। রাতের আঁধারে রাজু এন্টারপ্রাইজের অফিসে বসে সবকিছু ঠিকঠাক করে দেন তিনি। দিনের বেলায় পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করেন অনুসারীরা। আর এ সময় তিনি থাকেন গভীর ঘুমে। নিয়মাফিক রাতে চলে হিসেব-নিকেষ ও কাজের পরিকল্পনা।

জানা যায়, শাখেরুল ইসলাম রাজু মীরসরাই পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাখেরুল ইসলাম রাজু দ্বিতীয়। তার বাবা ছিলেন কৃষক। থাকতেন জরাজীর্ণ ঘরে। বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে অন্যভাইদের সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে।

সুযোগ বুঝে শুরু করেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উপর ভর করে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হন। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে পরিচয় দেন মেয়র হিসেবে। তার কথা, সবাই তাকে মেয়র ডাকেন তাই এ পরিচয় দিতে ভাল লাগে। তবে আগামি পৌর নির্বাচনে মীরসরাই পৌরসভা থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার কথা জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, রাজু এন্টারপ্রাইজের অফিসটি খুবই নির্জন এলাকায়। সড়ক পাশের সরকারি জমি দখল করে মুলত একাধিক দোকান গড়ে তোলেন তিনি। এতে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজু এন্টারপ্রাইজের সাইনবোর্ড। যেখানে বসে পুরো মীরসরাইয়ে দখলবাজি, চাদাঁবাজি, মাদক পাচার, সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচার, অস্ত্র পাচার, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ তার পুরো অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন তিনি। মাত্র দুই-তিনমাস আগে তিনি ভার্ক হাসপাতাল ভবনও দখল করেন। ভবনটির মালিক আজমীর হোসেন নামে একজন।

নানা অপরাধ কর্মকান্ডে তার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে রয়েছে একাধিক মামলা। এরমধ্যে বন মামলাও রয়েছে। রয়েছে ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষের মামলাও। কিন্তু অধরা তিনি। শুধুমাত্র দলীয় নাম ভাঙিয়ে নির্বিঘ্নে রয়েছেন তিনি।

যার সত্যতা স্বীকার করেছেন মীরসরাই পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর। মীরসরাই ফটিকছড়ি সড়কে কাঠবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির, সংরক্ষিত বন থেকে কাঠ পাচার, মাটি পাচার ও বনভুমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেও বলেন, দলীয় লোকজন এসব কাজে জড়িত, তিনি নন। তবে দলীয় লোকজনের পক্ষে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নানা অপরাধ মাধ্যমে কাউন্সিলর রাজু প্রতিমাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ফলে মাত্র কয়েকবছরে তিনি ফুলে ফেঁপে উঠেন। সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকা আমবাড়িয়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের কেনা জমিতে গড়ে তোলেন তিনতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ি। যার নাম দেওয়া হয়েছে স্বপ্ননীড়। এই বাড়ি তৈরীর সময় পার্শ্ববর্তি দুই প্রতিবেশীর জমিও জোরপূর্বক দখল করেন তিনি। যাদের একজন হচ্ছেন প্রবাসী। অন্যজন এক নারী। সেই সাথে দখল করেন সড়ক পাশের সরকারি জমিও।

ব্যক্তিগত চলাফেরার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকায় কিনেছেন প্রাইভেট কার। মীরসরাইয়ের একাধিক ব্যাংকের শাখায় একাধিক হিসাবে নামে-বেনামে রয়েছে তার কোটি টাকা। যা সম্পূর্ণ বৈধ আয় বহির্ভূত। তার বিপুল সম্পদের খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসবে তার অপরাধ রাজ্যের নানা কীর্তি। যা তদন্ত করার জন্য দুদকের নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

(এরপর তৃতীয় কিস্তির জন্য চোখ রাখুন শুধুমাত্র শুভ চট্টগ্রাম অনলাইনে)