নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিয়ের নামে চার বছর সংসার করেছেন করোনা যোদ্ধা ডাক্তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের সাথে। কিন্তু ঘরে তোলেনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত কচি। বরং এই করোনাকালে নির্যাতনের খড়গ মাথায় তুলেছেন কচি। এমন অভিযোগ স্ত্রী ডা. নাজমা আক্তারের।

সোমবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ এনে ইয়াসিন আরাফাত কচির নানা ধরণের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন স্ত্রী ডাক্তার নাজমা আক্তার। বর্তমানে তিনি নগরীর বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. নাজমা আক্তার বলেন, চার বছর আগে ইয়াসিন আরাফাত কচির সাথে বিয়ে হয় আমার। বিয়ের সময় তিনি বলেন তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ পাবেন তিনি। এরপর আমাকে ঘরে তুলে নিবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার পর, ঘরে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আমার উপর নির্যাতন শুরু করে কচি।

নাজমা আক্তার বলেন, এমন পরিস্থিতে আমার দুইবার বেবি কনসিভ করি। কিন্তু তিনি জোরপূর্বক আমাকে বাচ্চা নষ্ট করতে বাধ্য করে। বার বার বাচ্চা এ্যাবরশান করার ফলে আমার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার কথা বললেও তিনি সে কথা শুনেন নি। বরং বিয়ের কথা প্রকাশ করলে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দেন বার বার। ২০১৮ সালের ৫ জুন তিনি আমাকে একবার ডিভোর্স দেন।

পরবর্তীতে আমি আমার ফেসবুক আইডিতে আমাদের কাবিননামাসহ বিয়ের কথা প্রকাশ করলে তিনি আমার কাছে মাফ চান এবং ডিভোর্স প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। এরপর হঠাৎ আবার আমার উপর ওনার অত্যাচার শুরু হলো। আমাকে প্রতিদিন মারধর করছে সে।

অন্যমেয়ে নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে, কিন্তু আমাকে ঘরে তুলছে না। আমাকে আবার ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা ও এসিড মেরে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বার বার। এ ব্যাপারে আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়াসিন আরাফাত কচি বলেন, ডা. নাজমা আক্তার আমার স্ত্রী ছিলেন। গত ৪ জুন তাকে আমি ডিভোর্স দিয়েছি। আমার মা ও পরিবারের উপর অত্যাচারের কারনে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমার মান-সম্মান ধুলোয় লুটাতে সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। সংবাদ সম্মেলনের সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।