নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মহানগরীর ১০টি ওয়ার্ডের পর এবার ৯ উপজেলাকে রেডজোন ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হল-পটিয়া, হাটহাজারী, সীতাকুন্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান।

এছাড়া তিনটি উপজেলাকে হলুদ জোন ও সংক্রমণ কম থাকায় সন্দ্বীপ ও মিরসরাইকে সবুজ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। হলুদ জোনের তিন উপজেলা হচ্ছে-ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন সাপেক্ষে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি সোমবার সকালে এই ঘোষণা দেন। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপজেলাগুলোয় পর্যায়ক্রমে লকডাউন কার্যকর করবে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে চট্টগ্রামের ৯ উপজেলাকে রেডজোন হিসেবে শনাক্ত করেছে। মূলত প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় গত ১৪ দিনে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছে এমন এলাকাগুলোকেই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি জানান, রেডজোন ঘোষিত উপজেলাগুলোর প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলাগুলোকে লকডাউনের আওতায় আনা হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লকডাউন চলাকালীন সময়ে চিহ্নিত এলাকায় সরকারি আধাসরকারি, স্বায়িত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। লকডাউন চলাকালীন সময়ে চিহ্নিত ওয়ার্ডে যানবাহন, জন চলাচল ও দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, লকডাউন চলাকালীন সময়ে এলাকার অধিবাসীরা নিজের এলাকায় থাকবেন এবং বাইরের কেউ নিজেদের এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। যারা ঘরে আবদ্ধ থাকবেন তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে এলাকাবাসীর চাহিদা মোতাবেক ন্যায্য বাজারমূল্যে খাদ্য, ওষুধপত্রসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবন যাপনের উপকরণ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। যারা হতদরিদ্র তাদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

এর আগে চট্টগ্রাম মহানগরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। এগুলো হচ্ছে ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড, ১৪ নং লালখান বাজার, ১৬ নং চকবাজার, ২০ নং দেওয়ান বাজার, ২১ নং জামালখান, ২২ নং এনায়েত বাজার, ২৬ নং উত্তর হালিশহর, ৩৭ নং উত্তর মধ্যম হালিশহর, ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ও ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর।