নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় আক্রান্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
গত ৫ জুন কামরানের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরদিন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়াতে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় তাকে সিএমএইচে আনা হয়। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন তৃনমুল থেকে ওঠে আসা এক রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সিলেট নগরীর ছড়ারপারের বাসিন্দা।

ভোররাত। হঠাৎ সিলেটে খবর পৌছলো প্রিয় মানুষ কামরান নেই। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লো খবরটি। দলীয় নেতা, স্বজন ও কাছের মানুষ কেউ খবরটি বিশ্বাস করেননি। বার বার সঠিক খবর জানার চেষ্টা করছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল রাত ৩টার দিকে খবর শুনেই ঘুম থেকে উঠেন। এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তিনি।

ফোন করছেন কাছের জনকে। ঢাকায়ও করলেন ফোন। কনফার্ম হওয়ার পর নিজেই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। ফোনে ঘুম ভাঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানে। কামরানের মৃত্যুর খবরটি তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ফোন দিলেন ঢাকায় অবস্থান করা কামরানের ছেলে শিপলুকে। ওপাশ থেকে এলো কান্নার শব্দ। বুঝতে বাকী থাকলো না- প্রিয় নেতা কামরান নেই। নাসির উদ্দিন খানও শোকাহত হয়ে পড়লেন। এমন খবরের জন্য তিনিও প্রস্তুত ছিলেন না।

খবর শুনে ঘুম থেকে উঠেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। ফোন বাজতে অবিরত। শুনলেন কামরান নেই। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। জানান- এমন তো হওয়ার কথা নয়। দিনেও তিনি সুস্থ ছিলেন। কামরানের মৃত্যুর খবরে নিজেকে সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছিলো আসাদের। এই সময়ে জেগে উঠে সিলেট। আর্তনাদ শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই মৃত্যুর খবরটি বিশ্বাস করতে পারছিলেন।

কামরানের পরিবারের ঘনিষ্টজন মেহেদী কাবুল জানান- কামরানের বাসায় আর্তনাদ করছিলেন তার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত আসমা কামরান। যে ড্রয়িংরুম সব সময় থাকতো কামরান ময়, সেই ড্রয়িং রুম হয়ে গেলো নীরব। বাদ ফজর ছড়ারপাড় মসজিদের মাইকে ঘোষিত হলো মৃত্যুর খবর। সিলেটের সব মসজিদে মসজিদে দোয়া করলেন মুসল্লিরা। সবার একটি চাওয়া- জনগনের কামরানকে আল্লাহ যেন ওপারে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

কামরান প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৩ সালে। তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ৩ নং তোপখানা ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল কামরানের পথচলা।

১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং ২০০৩ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন । ২০০৮ সালে কারাগারে থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশনেন । সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর চেয়ে ৮৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান।

২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে প্রায় ৩৫ হাজর ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পর্যন্ত কখনো কমিশনার, দুই দফা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২ দফা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচন ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি।

২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন। অনেকের সাথে সে দিন আহত হয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে তিনি শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন কামরান।