নিজস্ব প্রতিবেদক : পার্বত্য চট্টগ্রামের গেরিলা নেতা সুধাসিন্ধু খীসা মারা গেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বুধবার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়িস্থ তার গ্রামের বাড়ির পারিবারিক শ্মশানে তার সৎকার করা হয়।

বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে নিজ বাসায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী মেধাবী ছাত্রনেতা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপের সাবেক সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ছিলেন তিনি।

পার্বত্য জেলার পাহাড়ি জনগণের কাছে তিনি একজন সুবক্তা ও শিক্ষা-দীক্ষায় উঁচু মানের নেতা হিসেবে অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। ফলে তার মৃত্যুতে তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের মাঝে একটি শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র থাকাকালে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতির একজন নেতা হয়ে উঠেন। প্রয়াত সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম. এন. লারমা)-র সঙ্গে মিলে গঠন করেন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)’।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি (শান্তিচুক্তি)’ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটির সাথে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সংলাপেই সুধাসিন্ধু খীসা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনেও লড়েছিলেন।

তার রাজনৈতিক অনুসারী বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানান, সুধাসিন্ধু খীসা ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সাদামাটা ছিলেন। তার জাগতিক লোভ-লালসা ছিল না বললেই চলে। নিজের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার চেয়ে তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকেই মনোযোগী ছিলেন। তার মৃত্যু আমাদের কাছে ভীষণ এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।