আজাদ মুহাম্মদ: 
করোনা শনাক্তের জন্য সংগৃহীত চট্টগ্রামের চার হাজার নমুনা এখন নষ্টের পথে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) ল্যাবে আড়াই হাজার, আর বিআইটিআইডি ল্যাবে রয়েছে দেড় হাজারের মতো। যেগুলোর পোস্টমর্টেমের জন্য এখন ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ নমুনা এক সপ্তাহ পর্যন্ত ঠিক থাকে। এরপর আস্তে আস্তে সেগুলোর মান কমতে থাকে। যেগুলো থেকে সঠিক ফলাফল নাও আসতে পারে। সে হিসেবে চমেক ও বিআইটিআইডি ল্যাবে জমে থাকা চার হাজার নমুনা নিয়ে সপ্তাহ পেরিয়ে মাসও হয়ে গেছে। ফলে এসব নমুনার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সংগৃহীত নমুনার তুলনায় পরীক্ষার সুবিধা চট্টগ্রামে শুরু থেকেই অপ্রতুল ছিল। ফলে পর্যায়ক্রমে দুটি ল্যাবে প্রায় চার হাজার নমুনা জটের কবলে পড়ে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ল্যাবে প্রায় আড়াই হাজার, আর বিআইটিআইডি ল্যাবে দেড় হাজারের মতো।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ নমুনা পরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে নগরীর তিনটি ল্যাবে। কিন্তু বিপরীতে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে চার হাজারের মতো নমুনা জটে পড়ে। তবে জট কমাতে প্রায় তিন হাজার নমুনা ঢাকা স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার পর ঢাকা থেকে আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব নমুনার রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শামীম হাসান বিষয়টি স্বীকার বলেন, চমেক হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার নমুনা জমা হয়ে গেছে। এরমধ্যে দুই হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এসব নমুনার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বলতে গেলে নমুনাগুলোর পোস্টমর্টেম করা হবে।

চট্টগ্রাম বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদও বলেন, ঢাকায় পাঠানো হলেও এসব নমুনার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সাতদিন পর্যন্ত নমুনার মান ঠিক থাকে। এরপর মান কমতে থাকে। মান কমে গেলে ওই নমুনার যথাযথ ফল পাওয়া নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। মোটকথা সংগৃহীত নমুনা বেশিদিন পড়ে থাকলে একসময় এর মান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় ধরেই করোনার নমুনা জট লেগে ছিল বিআইটিআইডি ল্যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ল্যাবের সংখ্যা কয়েকটি বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সন্দেহজনক করোনা সংক্রমণ রোগীর সংখ্যা। এতে নমুনার সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। তাই পরীক্ষার সুবিধা কিছুটা বাড়লেও প্রায় ৭০ লাখ মানুষের শহর চট্টগ্রামের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। যার কারণে নমুনার জট দিনদিন বাড়ছে।

এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে যেতে হয়েছে বিআইটিআইডির ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদকেও। নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসার পর গত ২৬ মে রাত থেকে থেকে তিনি হোম আইসোলেশনে আছেন। তিনি একা নন, টেকনোলজিস্টসহ ল্যাবের আরো কয়েকজনের শরীরেও করোনার সংক্রমন শনাক্ত হয়েছে।

নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বেশ কয়জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় জীবানুমুক্ত করার লক্ষ্যে তিনদিন (২৯-৩১ মে) ল্যাবটি বন্ধ রাখা হয়। বিআইটিআইডির ল্যাবটি বন্ধ থাকার সময়ে নমুনার চাপ ভিড় করে চমেক ল্যাবে। এতে করে চমেক ল্যাবেও নমুনা জটের সৃষ্টি হয়। সেখানেও পরীক্ষার সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় নমুনা জট দিন দিন বেড়েছে।

সংকট নিরসনে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষার সুবিধা আরো বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিআইটিআইডির ল্যাব ইনচার্জ ডা. শাকিল আহমেদ। তাঁর অভিমত-বর্তমানে যে সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, পরীক্ষার সুবিধা অন্তত এর দশগুণ বাড়াতে হবে। বিদ্যমান ল্যাবগুলোতে জনবল দেয়ার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে পিসিআর ল্যাব চালুর সুযোগ আছে, সবখানেই ল্যাব চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো চট্টগ্রামের ভবিষ্যত পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।