বান্দরবান সংবাদদাতা:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এখন প্রচন্ড শ্বাসকষ্ঠে ভুগছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। সেখানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে।

মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাদেক হোসেন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার (৭ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মন্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে পৌছে মন্ত্রীকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে ও মেয়ে রয়েছেন।

সাদেক হোসেন চৌধুরী জানান, মন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে বান্দরবান ফায়ারসার্ভিস এলাকার নিজ বাসা থেকে বেড়িয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দলীয় নেতাকর্মী, শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেরিন আকতারসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল তার। তবে এখন শ্বাসকষ্ট আরও বেড়েছে। নেবুলাইজার মেশিনে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন তিনি। তার জ্বর ছিল না। আগে থেকেই একটু কাশি ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার মতো কিছুই নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিএমএইচে নেয়া হয়েছে।

সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, অসুস্থবোধ করলে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পাঠান চিকিৎসকরা। শনিবার (৬ জুন) কক্সবাজার ল্যাবের পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে মন্ত্রী নির্বাচনী এলাকায় করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণ ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করছিলেন। এ সময়ে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

উল্লেখ্য, বীর বাহাদুর উশৈসিং জাতীয় সংসদের সর্বশেষ আসন বান্দরবান-৩০০ থেকে টানা ছয়বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন বীর বাহাদুর।

বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বান্দরবানে জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন ৪৬ জনে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শনাক্ত রোগী আছেন ৬ জন। উপসর্গ থাকা নমুনা সংগ্রহ করা রোগী আছেন ৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪ জন।